
রোকন উদ্দীন আহমদ: সাংবাদিক ও সংগঠক কে. এম. আলী হাসানের জীবন মানবিক গুণাবলীতে ভাস্বর। করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে তিনি মানবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ধুমপান নিবারণ কার্যক্রম এবং চক্ষু চিকিৎসা সেবায় তিনি চট্টগ্রামে প্রসংশিত। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার বরকল গ্রামের কাজী বাড়ীতে ১৯৭৮ সালের আগস্ট মাসে তাঁর জন্ম। পিতা আলহাজ্ব কাজী আবদুস সবুর এবং মাতা জাকিয়া বেগম। পিতা ছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষক।
আলোকিত মানুষ কে. এম. আলী হাসান চট্টগ্রাম শহরের সোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পাস করেন। চট্টগ্রাম সরকারি মহসিন কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর প্রায় একযুগ বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষতা করেন। পাশাপাশি লেখালেখি, সাংবাদিকতা ও মানবসেবায় নিয়োজিত থাকেন।
সাংবাদিক কে.এম. আলী হাসান ১৯৯০ এর দশকে চট্টগ্রামের ‘আদর্শ লিখক ফোরাম’ এর সদস্য ছিলেন। চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী, দৈনিক নয়াবাংলা, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামের মাধ্যমে লেখালেখির চর্চা শুরু করেন। সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন দৈনিক নয়াবাংলার চন্দনাইশ প্রতিনিধি হিসেবে। তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আল মোজাদ্দেদ, দৈনিক ঈশান ও সংবাদ সংস্থা। এন.এন.বির চন্দনাইশ প্রতিনিধি পদেও সফলতার সাথে কাজ করেছেন। ১৯৯৮-৯৯ সালে চন্দনাইশ রিপোর্টার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনী প্রচারে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম চন্দনাইশে গুলিবিদ্ধ হলে স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে তিনি চন্দনাইশ থেকে বিবিসির ঢাকা অফিসে ঘটনার তথ্য প্রদান করেন। তাঁর তথ্যে বিবিসি গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করে।
নিবেদিত এই সাংবাদিক সাপ্তাহিক খতিয়ানের চট্টগ্রামে সিনিয়র রিপোর্টার এবং দৈনিক দেশজগত মাসিক থাকাকালে চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ছিলেন। চট্টগ্রামে দৈনিক আজকের চট্টগ্রাম, দৈনিক শাহ আমানত ও দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার পদে কাজ করেছেন। জাতীয় দৈনিক নওরোজ এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন। জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলা, দৈনিক আজকের প্রত্যাশায় চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় পর্যায়েও তিনি সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলার ঢাকা অফিসে সচিবালয় বিটে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ঢাকায় দৈনিক আজকের প্রত্যাশার সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন। তার সাংবাদিকতা জীবন অভিজ্ঞতাপূর্ণ। তিনি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার চট্টগ্রাম জেলা শাখার দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এসময় সংস্থার সদস্যদের সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় মাসিক আয়কর বার্তার সহকারী সম্পাদক।
মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ সংগঠক কে. এম. আলী হাসান ২০০৩ সালে ‘ভিশন বাংলাদেশ’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পপ্রতিষ্ঠা করে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তরুণ সমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মানসে ২০০৭ সালে তামাক ও ধুমপান বিরোধী সংগঠন ‘এসো ধুমপান প্রতিরোধ করি’ প্রতিষ্ঠাতা করেন। সংগঠনটিরও তিনি সভাপতি। এই সংগঠনের ব্যানারে ধুমপান নিবারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় ধুমপানবিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ প্রচার কর্মসূচী করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীন স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করতে সিটি কর্পোরেশনের এককালের মেয়র মনজুর আলমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ধুমপান নিবারণমূলক এই কর্মসূচীতে তিনি চট্টগ্রাম প্রসংশিত হন। ২০০৯ সালে চন্দনাইশে ‘ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ আবুল কাসেম গণপাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ অঞ্চলে তরুণদের বই পড়ায় উদ্বুদ্ধকরণে মেধার বিনিয়োগ করেন। তিনি বরকল-বরমা-বৈলতলী যাত্রী কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বরকল-বরমা নাগরিক পরিষদের সভাপতি। নীল মানবাধিকার উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চন্দনাইশ উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সংগঠনটির উদ্যোগে ২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। সে সময় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার পক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে উদ্যোগ নেওয়ার দাবী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
১৯৯০ এর দশকে চন্দনাইশ, দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সেবা সংস্থা সাইড সেভার্ড ইন্টারন্যাশনাল এর অর্থায়নে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় চক্ষু শিবির আয়োজন করে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে সেবা প্রদান করেছেন। এতে তিনি একজন সমাজকর্মী হিসেবে জন স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং এলায়েন্স- ফেমা এর বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কয়েক বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষক ছিলেন।
সাংবাদিক, সংগঠক ও মানবাধিকারকর্মী কে. এম. আলী হাসান করোনাকালীন সময়ে চট্টগ্রামের বেসরকারী সেবা সংস্থা ‘আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ এর করোনা রোগীদের দাফন, কাফন ও চিকিৎসা সেবা টিমের স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। করোনা রোগীদের দাফন, কাফন ও সেবায় নিজেকে নিশ্বার্থ নিবেদন করেন। এই মানবিক কর্মে জড়িত থেকে তিনি নিজ জীবনকে ধন্য মনে করেন।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।









