নিউজ ডেস্ক

আগস্ট মাসে সাংবাদিক নিপীড়নের চিত্র…!!!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আগস্ট মাসে কমপক্ষে ৪২ জন সাংবাদিক হামলা, মামলা, গ্রেফতার, সাজা ও পরোয়ানাসহ নানাভাবে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন শারিরীকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন সাতজন। অন্যরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দৈহিক লাঞ্ছনা ও হেনস্থার মুখে পড়েন। চলতি মাসে এক সাংবাদিক গ্রেফতার, দুই সম্পাদকের সাজা, দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং আরো ১৩ জন সাংবাদিক মামলায় আসামি হয়েছেন। এক ক্যাম্পাস সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। হয়রানিমূলক হিসাব তলব করা হয়েছে এক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের। এর বাইরে মামলার হুমকি দিয়ে ১৩ জনকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে।

 

দেশের প্রথম সারির সংবাদপত্র ও শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে নজর রেখে এবং নিজস্ব সূত্রে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মনিটরিং কমিটি সাংবাদিক নিপীড়নের এ চিত্র পেয়েছে। বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকনের নেতৃত্বে এ মনিটরিং কমিটিতে কাজ করছেন সহ-সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান ও দফতর সম্পাদক তোফায়েল হোসেন। সংবাদমাধ্যমে খবরের মর্যাদা পায়নি এমন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা এ পরিসংখ্যানের বাইরে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিদায়ী আগস্ট মাসে সর্বাধিক ১০ জন সাংবাদিক নিগৃহীত হয়েছেন চিকিৎসক ও তাদের সহযোগীদের হাতে। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে পৃথক দু’টি ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকেরা বাধা ও আক্রমনের শিকার হন। এছাড়া হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও জামালপুরে রেল কর্মীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। অন্য হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে ঢাকা, রাজশাহী, ফেনী, নোয়াখালী, মাদারিপুর, নীলফামারী, কুষ্টিয়া ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এর বাইরে আগস্ট মাসের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার একটি আদালত কর্তৃক দুই সম্পাদক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের রায়, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলমসহ দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মামলা, দুই সিনিয়র সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রংপুরে তিন সাংবাদিকের বিচার শুরু এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় চার সাংবাদিককে রাজনৈতিক সহিংসতার মামলায় আসামি করা।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের প্রথম সাত মাস জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১৯৮ জন সাংবাদিক নানাভাবে নিগ্রহের শিকার হন। খুন হন দুই সাংবাদিক। শুধু জুলাই মাসেই রেকর্ড ৪৮ জন সাংবাদিক নানাভাবে নিগৃহীত হয়েছেন।

১২ আগস্ট হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশনের নির্যাতনের শিকার হন দৈনিক মানবজমিনের সাংবাদিক শাহ মোস্তফা কামাল। ট্রেনের পাওয়ার কারে অবৈধ যাত্রী উঠানোর ছবি তোলায় আন্তঃনগর ট্রেন কালনী এক্সপ্রেসের পাওয়ার কার অপারেটর মোক্তারের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা সাংবাদিক মোস্তফা কামালকে ধরে নিয়ে পাওয়ার কারের ভেতরে বেধড়ক মারধর করে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে গুরুতর আহত হন মোস্তফা কামাল।

১৭ আগস্ট পুঠিয়ায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সভাপতি ও কালের কন্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের গাড়িতে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন যুবক হামলা চালায়। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চাইনিজ কুড়াল, রামদা ও লোহার পাইপ দিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করলে তিনি আহত হন।

১৮ আগস্ট মাদারিপুরে রাসেল নামে এক সাংবাদিক হামলায় আহত হন। সদর উপজেলার মস্তফাপুরের চাঁপাতলীতে নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাপ্তাহিক আলোকিত সময়ের সম্পাদক এস এম রাসেল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। তার ডান হাতের কব্জি ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে আটজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেছেন।

১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আলোকিত সকালের প্রতিনিধি আল মামুন। স্থানীয় বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা রবিউল হাসানের নেতৃত্বে কাজীর হাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ার তিন পরীক্ষার্থীকে পেটায় ওই ছাত্রলীগ নেতা। এ নিয়ে লেখার কারণে সাংবাদিক আল মামুনের ওপর হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বিবিদ্যালয়ের (জাবি) কর্মরত এক সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মারধরের শিকার ওই সাংবাদিক হলেন আসিফ আল মামুন। তিনি বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক সময়ের কাগজ পত্রিকার সহ-সম্পাদক খন্দকার সোহেল টানু। রাতে শহরের বটতৈল বাইপাস সংলগ্ন আল আমিন হোটেলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার কারণ জানা যায়নি।

২২ আগস্ট জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে হামলার শিকার হন ঢাকা মেইলের সাংবাদিক খলিলুর রহমান। ব্যক্তিগত কাজে জামালপুর গিয়ে ফেরার সময় ট্রেনের টিকেট কাটতে গেলে একটি আসনের জন্যে তিনটি টিকেট কাটতে বাধ্য করা হয়। এ নিয়ে রেলকর্মীদের বক্তব্য রেকর্ড করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

২৪ আগস্ট নোয়াখালী সদরে প্যানকেয়ার আইসিইউ হাসপাতালে দেশ টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি খায়রুল আনম রিফাত নিগ্রহের শিকার হন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযানকালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই সাংবাদিককে শারিরীকভাবে আঘাত ও হেনস্তা করা হয় বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।

২৬ আগস্ট বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলে র‌্যাগিংয়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাত গণমাধ্যমকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও ট্রাইপড ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের বরিশাল ব্যুরো প্রধান কাওছার হোসেন রানা, ক্যামেরাপারসন রুহুল আমীন, এশিয়ান টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ফিরোজ মোস্তফা, ক্যামেরাপারসন আজিম, সময় টিভির রিপোর্টার শাকিল মাহমুদ, ক্যামেরাপারসন সুমন হাসান ও বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক মুশফিক সৌরভ।

২৭ আগস্ট যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছে তিন সাংবাদিক। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন-অর-রশিদ তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। লাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের যশোর প্রতিনিধি ও প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, একাত্তর টিভির যশোর প্রতিনিধি এস এম ফরহাদ ও ক্যামেরাপারসন শাহারুল ইসলাম ফারদিন।

২৮ আগস্ট নীলফামারির সৈয়দপুরে দুই সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন। দৈনিক নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি মো: জাকির হোসেন ও দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধি শাহজাহান আলী মনন শহরের কাজীপাড়া পানির ট্যাংকি এলাকায় এ হামলার শিকার হন। স্থানীয় নয়াটোলা একালার মাসুদুর রহমান লেলিনের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায় বলে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। মাদক ও দেহ ব্যবসা সংক্রান্ত খবর সংগ্রহে গিয়ে ফেরার সময় অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদক কারবারি ও এক নারীকে দিয়ে দেহ ব্যবসায় জড়িতরা এ হামলা চালায় বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন।

২৯ আগস্ট ঢাকায় মেট্রোরেলের সংবাদ সংগ্রহে হিয়ে আনসার সদস্যের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। শেওড়াপাড়া স্টেশনের প্লাটফর্মে এ হেনস্তার ঘটনা ঘটে। দুই সাংবাদিক হচ্ছেন দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক সোহাগ ও আমাদের সময়ের আক্তারুজ্জমান। মেট্রোরেল নিয়ে ভিডিও প্রতিবেদন করতে তেলে তাদের বাধা দিয়ে আনসার সদস্য আসলাম সরদার তাদের যন্ত্রপাতি কেড়ে নেন এবং টেনেহিঁচড়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কক্ষে নিয়ে যান।

মামলা, গ্রেফতার ও সাজা ১ আগস্ট রাতে গ্রেফতার করা হয় সিনিয়র ফটো সাংবাদিক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মো: লুৎফর রহমান খানকে। পুলিশি নির্যাতন ও কারাভোগের পর ২৭ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।

১৫ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাবুর কান্ড : কক্সবাজারে শতকোটি টাকার জমি দখল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু। ওই মামলায় যুগান্তরের কক্সবাজার প্রতিবেদক জসিম উদ্দিনকেও আসামি করা হয়েছে।

১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালত জ্যেষ্ঠ সম্পাদক শফিক রেহমান ও দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের নির্দেশনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের এ সাজা দেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জমান নুর দণ্ডবিধির দু’টি পৃথক ধারায় এ সাজা দেয়ার কথা জানান।

১৭ আগস্ট কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা দু’টি মামলায় চার সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি আবদুল মজিদ, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ও পূর্বদেশ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি এ কে এম ইকবাল ফারুক, কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক কক্সবাজার সংবাদ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি এ কে এম বেলাল উদ্দিন এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার উপকূলীয় সংবাদদাতা এ এম ওমর আলী। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল ফোরকান ৭৪ জনের নাম উল্লেখ এবং দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুই শ’ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দু’টি করেন।

২৪ আগস্ট বরগুনার বামনার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন যুবলীগের স্থানীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম। বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে এ মামলা হয়। অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক হচ্ছেন দৈনিক সাগরকুলের প্রকাশ ও সম্পাদক নেছার উদ্দিন এবং একই পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান আশিক।
রংপুরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন সাংবাদিকের বিচার শুরু করেছে সাইবার ট্রাইব্যুনাল। ২৪ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আবদুল মজিদ। অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন মানবকন্ঠ ও স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার মহিউদ্দিন মখদুমী, দেশ রূপান্তরের মামুন রশিদ, অনলাইন রংপুরের কন্ঠ ও ঢাকা পোষ্টের শরিফুল ইসলাম। বিজিডির চাল বিতরণে অনিয়ম সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের জেরে ২০২১ সালের এক ইউপি চেয়ারম্যানের করা মামলায় এ বিচার শুরু হয়েছে।

২৮ আগস্ট দৈনিক বাংলার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে পত্রিকাটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরিফুজ্জমান পিন্টু ও বিশেষ প্রতিনিধি আরিফুজ্জমান তুহিনের বিরুদ্ধে ১০ জানুয়ারি মামলা করেন শফিউল্লাহ শফি নামে এক ব্যক্তি। ১০০ কোটি টাকার ওই মানহানি মামলায় দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ভুল চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেদন করায় ঢাকার ইব্রাহীম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ডা. মাসুম সিরাজ পাঁচ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১২৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন। ৩ আগস্ট ৫ সাংবাদিকের কাছে সমন আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা হচ্ছেন নাগরিক টিভির আনোয়ার হোসেনসহ একুশে টিভি, ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ ও সারা বাংলা ডটনেটের প্রতিবেদক।

প্রথম আলোসহ চারটি পত্রিকাকে আইনি নোটিশ দিয়েছে এস আলম গ্রুপ। সংবাদ প্রকাশের কারণে এস আলম গ্রুপের মালিকানা সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ব্যাংকের ৪৩ হাজার কোটি টাকার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে চার পত্রিকার সম্পাদক ও ১১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়ে ১১ আগস্ট এ লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশপ্রাপ্তরা হচ্ছেন প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান ও প্রতিবেদক সানাউল্লাহ সাকিব, ডেইলী স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নির্বাহী সম্পাদক আশফাকুল হক, সাংবাদিক পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য ও জাইমা ইসলাম, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর ও প্রতিবেদক মোস্তাফিজুর রহমান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার সম্পাদক ইনাম আহমেদ, রিপোর্টার জেবুন্নেসা আলো ও সাখাওয়াত প্রিন্স।

৫ আগস্ট ‘মালিক ছাত্রলীগের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় ঢাবিতে স্ন্যাকসের দোকান বন্ধ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে এর জেরে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন ইংরেজি দৈনিক ‘দ্যা ডেইলি অবজারভার’-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধান প্রতিবেদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক তাওসিফুল ইসলাম।

অন্যান্য
জনপ্রিয় টকশো তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জিল্লুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয় ৯ আগস্ট। হয়রানির উদ্দেশে এমনটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

৩ আগস্ট সংবাদ প্রকাশের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থী ও দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইকবাল মনোয়ারকে প্রশাসন কর্তৃক বহিষ্কার করা হয়। গত ৩১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে ভিসি অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন দুর্নীতির বিষয়ে বির্তকিত মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্য উদ্বৃত করে দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য করুন