নিউজ ডেস্ক

সালাহউদ্দিন কর্তৃক সৃজিত নিবন্ধন কেন বাতিল হবে না মর্মে হাইকোর্টের রুল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপির ২০২০ সালে সৃজিত মনগড়া ট্রাস্টের রেজিস্ট্রেশন এবং এর জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধন কেন বাতিল মর্মে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তৎপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং রুল নিশি জারি করেছে।
মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তাফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি আতাবুল্লাহ এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে লায়ন মো: মুজিবুর রহমান তার আইনজীবীর মাধ্যমে ০৩/১০/২০২৩ তারিখে অবৈধ ট্রাস্ট দলিল এবং আরজেএসসি কর্তৃক বেআইনি নিবন্ধন বাতিলের লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও তাতে তারা কর্ণপাত করেনি। ফলে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রীট পিটিশন নং-১৫৪৩৫/২০২৩ দায়ের করেন। প্রথম শুনানি শেষে হাইকোর্ট ডিভিশন এক আদেশ মূলে কেন সালাহউদ্দিন আহমদসহ প্রতিপক্ষ নং-৭-১৯ এর সমন্বয়ে শঠতা ও জালিয়াতিমূলে সৃজিত ও নিবন্ধিত কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট দলিল নং-৩১৫০, তাং ১২/১০/২০২০ এর ভিত্তিতে আরজেএসসি রেজিস্ট্রেশন নং-সিএইচএস-৬৭৪, তাং ০১/১০/২০২১ বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করা হবে না এবং লায়ন মো: মুজিবুর রহমানের সংশোধিত ট্রাস্ট দলিল নং- ১ঠ-০৫ তাং ১৮/১০/২০১৫ মূলে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট এর নিবন্ধন প্রদানে প্রতিপক্ষগণের নিস্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনানুগ কার্যকারিতাহীন বলে ঘোষণা করা হবে না এবং কেন আরজেএসসির রেজিস্ট্রার এবং এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে উক্ত সালাহউদ্দীনের ট্রাস্ট এর নিবন্ধন প্রত্যাহার ও বাতিল এবং ট্রাস্ট দলিল নং- ১ঠ-০৫ তাং ১৮/১০/২০১৫ এর ভিত্তিতে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট-কে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর জন্য রুল নিশি জারী করা হয়। প্রতিপক্ষগণকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। উপরোক্ত রীট মামলায় বিশিষ্ট আইনজীবী এ. কে. এম. বদরুদ্দোজা আবেদনকারী লায়ন মো: মজিবুর রহমানের পক্ষে শুনানি করেন।
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর আলোকে ০৭/০৪/২০১৩ তারিখের অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় “কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট” নামে একটি ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং সভায় কার্যবিবরণীতে লায়ন মো: মুজিবুুর রহমানের নাম প্রতিষ্ঠাতা এবং সালাহ উদ্দিন আহমদ এর নাম সভাপতি হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। পরবর্তীকালে ২৭/০৬/২০১৩ তারিখে কক্সবাজার সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ১ঠ-০৪ ট্রাস্ট দলিল নিবন্ধিত হয় যাতে ট্রাস্টি হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ, মোঃ মুজিবুর রহমান, মাহবুবা সুলতানা প্রমুখের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ট্রাস্ট হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৫/০৯/২০১৩ তারিখে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক ০৬/১০/২০১৩ তারিখে অনুমোদন লাভ করে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্ধারিত ছকে দাখিলকৃত আবেদনপত্রের সংশ্লিষ্ট কলামে লায়ন মো: মুজিবুর রহমানের নাম প্রতিষ্ঠাতা এবং সালাহউদ্দিনের নাম চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে অবহিত করলে ইউজিসি ২ সদস্যের কমিটি গঠন করে। কমিটি ২৬/০৬/২০১৩ তারিখে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ইউজিসির পরিচালক মো: শামশুল আলম প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো: মুজিবুর রহমানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠনের জন্য অনুরোধ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে ২৭/০৬/২০১৩ তারিখে নিবন্ধিত ১০ জন ট্রাস্টির সমন্বয়ে গঠিত ট্রাস্ট দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র দাখিল করা হলে ইউজিসি ০৩/০৭/২০২৩ ইং তারিখ বিশ^বিদ্যালয় অনুমোদন প্রদানের জন্য সুপারিশ করে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ মহামারি করোনা চলাকালে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাকালে বিশ^বিদ্যালয় দখল করে প্রতারণামূলকভাবে ১২/১০/২০২০ তাং একটি ট্রাস্ট দলিল নিবন্ধন করেন এবং সেখানে নিজে চেয়ারম্যান হন এবং তদীয় পুত্র আবরার আহমেদ, এড. সিরাজুল মোস্তফা, শাহ আলম চৌধুরী, মাসুদুল হক রাশেদ, প্রফেসর মোঃ আবদুর রহিম, প্রফেসর এ. কে. এম. গিয়াসউদ্দিন প্রমুখকে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া বেআইনিভাবে ট্রাস্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। উক্ত ট্রাস্ট দলিল এবং এর সদস্যগণকে অবৈধ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারের ভলিউম থেকে দলিলটি কর্তনের জন্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রামের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে অপর মামলা নং-৬৫/২০২১ দায়ের করেন যা এখনও বিচারাধীন। উক্ত মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আরজেএসসি-চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় বেআইনি ও অনৈতিকভাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক দাখিলকৃত ট্রাস্ট সোসাইটি রেজিষ্ট্রেশন এ্যাক্ট-১৮৬০ এর অধীনে রেজিষ্ট্রি করে যাতে মূল ট্রাস্টের অপর ৯ জন ট্রাস্টির কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করেননি বরং প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মো: মুজিবুর রহমানকেও বেআইনিভাবে বাদ দেন।

মন্তব্য করুন