নিউজ ডেস্ক

উপজেলা ফটিকছড়ির ধুরুং খালের ঝুকিঁপূর্ণ স্লুইস গেইট অপসারণ করে রাবারড্যাম নিমার্ণ একান্ত প্রয়োজন

এ.কে.এম নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা ফটিকছড়ি: চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা ফটিকছড়ি ধুরুং খালের মানধাত্বার আমলে নির্মিত পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ সুইচগেইটি অপসারন করে রাবারড্যাম নিমার্ণ একান্ত প্রয়োজন। সরজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, উপজেলা ফটিকছড়ির প্রাণ কেন্দ্রে প্রবাহিত ধুরুং খাল। এ খাল গিয়ে মিলিত হয়েছে হালদা খালের বুকে। তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তানের আমলে আইয়ুব খানের ঘোষিত ইরিগেশন স্কীম বাস্তাবায়নের লক্ষ্যে উক্ত ধুরুং খালে স্লুইস গেইট স্থাপন করা হয়। উক্ত ¯ুøইস গেইটের কারণে এলাকাবাসীর ভবিষ্যতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি কথা চিন্তা করে ফটিকছড়ির হাজার হাজার জনতা ইহার তীব্র প্রতিবাদ ও মিছিল বের করে বাঁধ নিমার্নে বাধা দিলে তৎকালিন সরকারের আমলের পুলিশ জনতার উপর গুলি ছুঁেড় প্রতিবাদ মিশিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের গুলিতে ধুরুং গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তির প্রাণ হারায়। অতঃপর জনতাকে চত্রভঙ্গ করে পুলিশের পাহারায় উক্ত বাঁধ নিমার্ণ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। উজান ভাটা পাহাড়ী অঞ্চল থেকে বর্ষার মৌসুমে পাহাড়ী বৃষ্টির ঢলে ¯্রােতের পানি ¯ুøইস গেইটের সাথে বাধা সৃষ্টি করে ধুরুং খালের কুলবর্তী বসবাসকারী জনসাধারণের ঘরবাড়ি, হাটবাজার এবং উপজেলা সদরের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। উক্ত খালের উভয় পাশে রয়েছে ধুরুং ইউনিয়ন যাহা বর্তমান ফটিকছড়ি পৌরষভা, সুন্দরপুর ইউনিয়ন, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন যাহা বর্তমান ফটিকছড়ি পৌরসভা, কাঞ্চননগর ইউনিয়ন এবং লক্ষীছড়ি পার্বত্য অঞ্চল। ঐ সব এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ধান ও ফসলদী উৎপাদন হয়ে থাকে। উক্ত স্লুইস গেইটের কারণে ঐ সব উৎপাদিত ফসলাদী ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। বর্তমানে উক্ত স্লুইস গেইটটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উভয়পাশে স্লুইস গেইটের পুরাতন পাকা দেওয়াল ফাটল এবং দেওয়ালের মাটির গভীর নিচে পানির ¯্রােতে মাটি সরে গর্তে পরিণিত হয়ে বিপদজন অবস্থায় রয়েছে। যেকোন মূহুর্তে বড় ধরণের ঘটনায় জান মালের ক্ষতির সম্ভাবনা। দেওয়ালের রেলিং ও পুরাতন দেওয়াল নরবর করতে দেখা যাচ্ছে। উক্ত স্লুইস গেইট এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ও স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা মিনি পর্যটন কেন্দ্রের মতো প্রতিদিন পরিদর্শনে আসা যাওয়া করছে। উক্ত স্লুইস গেইটের এক পাশে বিপদজন স্থানে দুটি ফুট ফুটে কিশোর দাঁড়িয়ে রয়েছে দেখা যাচ্ছে। ঐ শিশু ২টি অবুঝ বিধায় জানে না যে তারা কিসের উপর দাঁড়িয়ে আছে? ওখানকার বাসিন্দারা জানান ঐ ২টি শিশু দাড়ানোর স্থান নিরাপদ নয়। যেকোন মূহুর্তে ধসে পাড়ার আশংকা রয়েছে। উক্ত স্লুইস গেইটের দায়িত্ব নিয়োজিত আছে বাংলাদেশ পানি বোর্ড কর্তৃপক্ষ। উক্ত কর্তৃপক্ষের নিদের্শে লাখ লাখ টাকার মূল্যে ব্লকইট দিয়ে বাধঁ রক্ষা করতে গেলে দেখা যায়, ¯্রােতের পানিতে ব্লক ইটগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থাকে না বরং সারাকালে ছিটে পড়ে। উক্ত স্লুইস গেইটটি সুন্দরপুর ইউনিয়ন এবং ফটিকছড়ি পৌর সভার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিধায় উপরোক্ত বিষয়ে সুন্দরপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শাহনেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপরোক্ত বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফটিকছড়ি কার্যলয়ের কর্মকর্তাকে বার বার বলা স্বত্বেও সঠিক কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। অপর দিকে ফটিকছড়ি পৌর সভার মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন এর কাছে উপরোক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা আইন শৃঙ্খলা উন্নয়ন সভায় আবারও এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ফটিকছড়ি কার্যলয়ের কর্মকর্তাকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করিব। উপরোক্ত বিষয়ে উপজেলা ফটিকছড়ির এল, জি, ই, ডির সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী জনাব আবুল কালামের সাথে উক্ত বিষয়ে আলাপ করা হলে তিনি উক্ত পুরাতন ঝুঁিকপূর্ণ ধুরুং খালের স্লুইস গেইটটি অপসারণ করে রাবারড্যাম নিমার্ণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালামের আমলে এ প্রতিনিধি ফটিকছড়িতে ধুরুং স্লুইস গেইট অপসারণ করে রাবারড্যাম নিমার্ণ একান্ত প্রয়োজন এবং চট্টগ্রামে রাবারড্যাম নিমার্ণ একান্ত প্রয়োজন দুটি সংবাদ দৈনিক কর্ণফুলী ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হলে শেরপুরও চট্টগ্রাম কক্সাবাজারে কয়েকটি রাবার ড্যাম নিমার্ণ করা হয়েছে। ঐ সব রাবারড্যাম গুলোর কোন অভিযোগ এখনও জানা যায়নি বরং এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছে বলে জানা যায়। ইহার ধারাবাহিতায় পরবর্তীতে উপজেলা ফটিকছড়ির ভূজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফি নুরীর আপ্রাণ প্রচেষ্টায় কৈয়াচড়া চা, বাগানের পশ্চিম পার্শ¦স্থ হালদা খালে একটি রাবারড্যাম স্থাপন করা হয়েছে। যাহার সুফল দীর্ঘ বছর ধরে এলাকাবাসী ভোগ করে আসছে। অপরদিকে হারুয়ালছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল হোসেন এর আপ্রাণ চেষ্টায় পাহাড়ী ঢলে উজান ভাটা হারুয়ালছড়ি খালে একটি রাবারড্যাম নিমার্ণ করেছে বলে এলাকাবাসী জানান। উপরোক্ত বিষয়ে ফটিকছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা নিয়মিত ফটিকছড়ি কার্যলয়ে উপস্থিত না থাকায় এবং মুঠোফোনেও তাদের কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অতএব উপজেলা ফটিকছড়ির ধুরুং খালের স্লুইস গেইটটি অপসারণ করে জনস্বার্থে একটি রাবারড্যাম স্থাপনের জন্য এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য করুন