নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রামে যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে: ডা. শাহাদাত হোসেন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামে যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন স্পটে যানজট লেগে থাকে। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ডের কারণে নগরীর চার প্রবেশমুখ অবরুদ্ধ হয়ে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নগরীর প্রতিটি মোড়েই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দুই দিন আগে সুইডেনের রাজকন্যা ভিক্টোরিয়া মোহরা কালুরঘাট এলাকায় একটি সুইডিশ প্রকল্প পরিদর্শনে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। রাজকন্যার চলাচল ঘিরে নগরীতে রাজকীয় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। কিন্তু চট্টগ্রামের প্রশাসনের যানজট নিরসনে কার্যকর কোন ভূমিকা নেই। ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা না থাকা এবং ট্রাফিক পুলিশের অবহেলা ও চাঁদাবাজিই এর জন্য দায়ী।

তিনি বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে বন্দর থানাধীন কলসি দিঘির পাড়স্থ আজিজ এস্টেট প্রাঙ্গণে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড বিএনপির সেহেরী ও ইফতার সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ যানজটের অন্যতম কারণ। চট্টগ্রামে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেই, নেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। রয়েছে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের অভাব। তাই যানজট নিরসনে নগরীতে বড় বাসের মতো গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ডামি ভোটে ক্ষমতায় এসে ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারি দলের লোকজন। তারা রাস্তাঘাটে পর্যন্ত চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে গণহারে চাঁদা আদায় করছে। আর এর প্রভাব ভোক্তার উপর পড়ছে। নির্বাচিত সরকার না থাকায় সুবিধাভোগীরাই এসব ফায়দা লুটছে। যতদিন পর্যন্ত অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দুর্ভোগ ও সিন্ডিকেট জনগণের উপর চেপে বসবে।

আলহাজ্ব এম এ আজিজ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়, যার কারণে তাদেরকে কোথাও জবাবদিহি করতে হয় না। তাই সব কিছুর দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। দুর্নীতির আর্থিক দায় জনগণের কাঁধে চাপাতেই সবকিছুর মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। সবাইকে সরকারের এই গণবিরোধী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আজম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা বিএনপির সহ সভাপতি হাজ্বী মো. সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজ্বী মো. হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক নেজাম উদ্দীন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তাজ উদ্দীন, ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি আবু বকর বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জুনু, অঙ্গ সংগঠনের শাহিদা খানম, আবদুর রহিম, সরওয়ার মোল্লা, মো. ইলিয়াছ, মো. আলাউদ্দিন, আরিফুর রহমান রাশেদ, মো. মামুন, মো. আসাদ, মাওলানা জয়নাল, ফাতেমা কাজল প্রমূখ।

মন্তব্য করুন