নিউজ ডেস্ক

‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে মহাপরিচালক করে পটিয়া মাদরাসার ঐতিহ্য ভূলুন্ঠিত’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: পটিয়া মাদরাসায় ১৪ ফেব্রুয়ারির মজলিসে শুরাকে অবৈধ আখ্যায়িত করে এই শুরার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে মহাপরিচালক করে শতবর্ষী পটিয়া মাদরাসার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পটিয়া মাদরাসার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও নিপীড়িত শিক্ষক-ছাত্রদের সমন্বয়ে গঠিত পটিয়া মাদরাসা ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
আজ ২৮ মার্চ ২০২৪ (বৃহস্পতিবার), সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ায় সন্ত্রাসীদের দখলদারিত্ব, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও হামলা-ভাঙচুর এবং অবৈধ শুরার মাধ্যমে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদেরকে পদায়নের প্রতিবাদে পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিগত ১৪ ফেব্রুয়ারি পটিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত বিতর্কিত মজলিসে শুরায় উপস্থিত মুরব্বিগণ মজলুম মহাপরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযাহর প্রতি সুবিচার করেননি। আমাদের নবীজি (সা.) যখন হযরত আলী (রা.) বিচারক নিয়োগ করে ইয়েমেন পাঠান তখন তাঁকে নসিহত করেছিলেন যে, দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য না শুনে যেন ফয়সলা না করেন। কিন্তু আমাদের এই আলেম মুরব্বিরা হাদীসের নির্দেশ উপেক্ষা করেছেন এবং আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযাহর কোনো বক্তব্য শ্রবণ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্পণের সুযোগ দেননি।

মুরব্বিদের প্রতি অভিভাবকসুলভ যে আস্থা ও বিশ্বাস জাতির ছিল তা অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়েছে মন্তব্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, পটিয়া মারাসায় বর্তমানে যাকে মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে তিনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি, এহসান এসের চেয়ারম্যান হিসেবে গরিব গ্রাহকদের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুই ডজন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পটিয়া মাদরাসায় ছাত্রদেরকে ফুসলিয়ে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কাণ্ড সংঘটন করা হয়েছে মুরব্বিরা সেই ঘটনাকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং অপরাধীদের রক্ষা করেছেন।

সেগুনবাগান তা’লীমুল কুরআন মাদরাসা কমপ্লেক্সের পরিচালক হাফেজ মোহাম্মদ তৈয়বের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সদরে মুহতামিম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুল হক, ফটিকছড়ি জমিয়া ইসলামিয়া বায়তুল হুদার মুহতামিম ও আমিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মজলিসে শুরার সদস্য হযরত মাওলানা এমদাদুল্লাহ নানুপুরী, শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আলীম, মুরাদাবাদ মুহসিনিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইউসুফ মুরাদাবাদী, আঞ্জুমনে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের দফতর সম্পাদক মাওলানা সৈয়দুল হক, পটিয়া পৌরসভার সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ ইবরাহীম, শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এহসানুল হক, ছনহারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মাহবুবুল আলম, জমিরুদ্দীন বুলু, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা আবদুল আজীজ, মাওলানা শেখ লোকমান, মাওলানা আমিনুর রশীদ পটিয়াবী, মাওলানা কুতুবুদ্দীন, মাওলানা হোসাইন আহমদ ও মাওলানা উজাইরুল্লাহ প্রমুখ। ২৮ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার পর বিভিন্ন নিপীড়িত শিক্ষক-ছাত্রদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা জামালুদ্দীন, মাওলানা বোরহানুদ্দীন, মাওলানা সগির আহমদ চৌধুরী, হোযাইফা মালিক, জুবাইর, সোহরাব হোসেন আইমন।
এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৮ জানুয়ারি পটিয়ার এলাকাবাসী বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে পটিয়া মাদরাসায় কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। সেদিন অবৈধ শুরার গুজব ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে আগ থেকে প্রস্তুত হয়ে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা বিল্ডিংয়ের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে এবং আবু তাহের নদভীর নির্দেশে মুহূর্তের মধ্যে দা-কিরিচ, লোহার রড, দরজার বাটাং ইত্যাদি নিয়ে মাদরাসা থেকে বেরিয়ে পুরো এলাকায় তান্ডবলীলা চালায়। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে আবু তাহের নদভী গং উল্টো এ ঘটনাকে এলাকাবাসীর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, এটা তার শঠতাপূর্ণ অপকৌশল ছাড়া কিছুই নয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলাম বা পটিয়া মাদরাসার কারও সাথে আমাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা পছন্দ-অপছন্দ নেই। হেফাজতে ইসলামের কতিপয় নেতা পটিয়ার ঘটনায় যে অনাধিকার চর্চা ও অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছেন তা তাদের ব্যক্তিগত, এতে হেফাজতের সাধারণ কর্মি-সমর্থকদের কোনো সমর্থন নেই। উপর্যুক্ত ব্যক্তিবর্গ হেফাজতকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করছেন বলে নেতৃবন্দ মন্তব্য করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, যারা এই হস্তক্ষেপ করছেন তাদের নিজেদের মাদরাসায় কোনো শুরা নেই, পরিবারতন্ত্রই সেখানে নিয়ম, আয়-ব্যয়ের হিসাব-কিতাব নেই, কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। অনেকে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতার সুযোগ্য পরিবারকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করে দখলদারিত্ব কায়েম করে আছেন। কিন্তু পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক হবেন যোগ্যতার ভিত্তিতে, নিয়ম ও সংবিধানের আলোকে। পরিবারতন্ত্র, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী হামলা করে দুর্নীতিবাজদের পদায়ন পটিয়া মাদরাসার ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এই অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটা আমরা বরদাশত করবো না ইনশাআল্লাহ।

নেতৃবৃন্দ মুরব্বিদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, যাদেরকে আপনারা যোগ্য মনে করে পটিয়া মাদরাসায় পদায়িত করেছন তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে এবং মাদরাসার ভেতরে টর্চার সেল বানিয়ে রাস্তা থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করছে। মাওলানা সোহরাব হোসেন আইমানের আঙুলের নখ তুলে নেওয়া হয়েছে, আরিফ নামের একজনকে পায়ে মাড়িয়ে তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এরা নিজেদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থে শিক্ষার উদ্দেশ্যে আগমনকারী শিক্ষার্থীদেরকে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে এসব শিক্ষক নামধারীদেরকে বয়কট করার জন্য দেশের সচেতন জনগণ ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।

পটিয়া মাদরাসার বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আঞ্জুমনে ইত্তেহাদুল মাদারিস একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাবোর্ড। এর অন্তর্ভুক্ত ছয়শ মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি থেকে একটি অংশ ইত্তেহাদের তহবিলে বছরের পর বছর দিয়ে প্রায় কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী সেই তহবিল মহাসচিবের ভত্ত্বাবন্ধনে পটিয়া মাদরাসায় সংরক্ষিত একটি বিশেষ আলমারিতে রক্ষিত হয়। বর্তমান কর্তৃপক্ষ ছয়শ মাদরাসার হকের সেই টাকা আলমারি ভেঙে তসরুপ করেছে। আমরা সেই অর্থ পুনরুদ্ধার করে আইনানুগ ইত্তেহাদে ফেরত দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে জানার জন্য আবু তাহের নদভীকে কয়েক বার ফোন দেয়ার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য করুন