নিউজ ডেস্ক

হরিজন সম্প্রদায় থেকে আইনজীবী হওয়ায় কৃষ্ণ দাসকে সনাতন সংসদ’র সংবর্ধনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: দেশে প্রথম হরিজন সম্প্রদায় থেকে আইনজীবী হয়েছেন চট্টগ্রামের কৃষ্ণ দাশ প্রকাশ কৃষ্ণ লাল। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে তাকে গাউন পরিয়ে দেন জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থেকে এ ধরনের সাফল্যে খুশি তার বন্ধু ও আইনজীবীরাও। হরিজন সম্প্রদায় থেকে আইনজীবী হওয়ায় কৃষ্ণ চন্দ্র দাশকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।
হরিজন সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা, কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় অ্যাডভোকেট কৃষ্ণা দাসকে সম্মানিত করলেন বাংলাদেশ সনাতন সংসদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম ৯ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী মিঠুল দাস গুপ্ত, চট্টগ্রাম ৮ আসনের প্রার্থী সন্তোষ শর্মা, চট্টগ্রামে ১১ আসনের প্রার্থী দীপক কুমার পালিত, তারাচরণ মন্দির কমিটির সভাপতি রতন দাশ, শ্যামল দাশ, ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ গুহ, দীপক চৌধুরি, অধ্যাপক অপর্ণা বিশ্বাস, সজল মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কৃষ্ণ দাশের জন্ম হরিজন সম্প্রদায়ে। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার বান্ডেল রোডের সেবক কলোনিতে তার বেড়ে ওঠা। নগরীকে পরিষ্কার রাখতে সেবক হিসেবে বাবা-মা করতেন সহযোগিত। সমবয়সী অন্যরা পরিচ্ছন্নতার কাজকে পেশে হিসেবে নিলেও কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ ছিলেন ব্যতিক্রম। অদম্য আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরিচ্ছন্নকর্মীর কাজ করলেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন সমানতালে।
স্কুল, কলেজের পাঠ চুকিয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় ভর্তি হন বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ও বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েই কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ লাল এখন দেশে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথম আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে কৃষ্ণ দাশ অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এখন থেকে তিনি নিজেই মামলা পরিচালনা করতে পারবেন।
ছেলের এত বড় অর্জন দেখে যেতে পারেননি বাবা চিরঞ্জীব দাশ। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মারা যান। মা ছায়া দাশ ছেলের এই অর্জনে অনেক খুশি। তিনি বলেন, আজ আমার কষ্ট স্বার্থক হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে ছেলেকে মানুষ করেছি। আজ মানুষের মতো মানুষ হয়েছে। মানুষের জন্য যাতে ছেলে কাজ করে, সেটাই চাই।

আইনজীবি হওয়ার পুরো কৃতিত্ব হরিজন সম্প্রদাকে দিয়েছেন কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ। মহিউদ্দীন চৌধুরীর সহায়তার কথাও বলতে ভুলেননি তিনি। কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ বলেন, আমার স্বপ্ন পূরণের পর এখন নিজ সম্প্রদায়ের অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট বেলার স্বপ্ন ছিল আইন বিষয়ে পড়ব। সেই সুযোগ করে দিয়েছিলেন প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরী। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এলএলবিতে ভর্তি হই। প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী আমার পড়ালেখার সব খরচ ফ্রি করে দিয়েছিলেন, যার কারণে আমি আইনজীবী হতে পেরেছি।’

শিক্ষা জীবনের শুরুতে নগরের বান্ডেল এস কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেন কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ। এরপর মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল থেকে ২০০৯ সালে এসএসসি ও ২০১২ সালে ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১৮ সালে আইনে স্নাতক করেন। ব্যক্তি জীবনে ২০১৬ সালে একই সম্প্রদায়ের দিপীকা দাশকে বিয়ে করেন কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ। এখন তিনি দুই সন্তানের জনক। বড় ছেলের নাম প্রসেঞ্জিৎ ও ছোট ছেলের নাম চিরঞ্জীব লাল দাশ।

মন্তব্য করুন