নিউজ ডেস্ক

গেজেট অনুসারে গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম সারোয়াতলী বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানববন্ধন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামস্থ বোয়ালখালী উপজেলা ৫নং সারোয়াতলী ইউনিয়নের গ্রাম ও ৮নং ওয়ার্ডের নাম দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রাম ও ৯নং ওয়ার্ডের নাম উত্তর সারোয়াতলী নামকরণ করে গেজেট প্রকাশিত হওয়া সত্বেও অফিস—আদালত ও নির্বাচন কমিশনারের ওয়েবসাইটে বাস্তবায়ন না করায় অদ্য ২৭ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ ঘটিকায় বোয়ালখালী উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সম্মুখে গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম পুনরায় সারোয়াতলী নামকরণের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিকের সভাপতিত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শামসুউদ্দীন, বিনয় বাঁশী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব জলদাশ, মোঃ রমজান আলী, মোঃ ফারুক প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গ্রামবাসীসহ বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাম ও ৮নং ওয়ার্ডের নাম দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রাম ও ৯নং ওয়ার্ডের নাম উত্তর সারোয়াতলী নামকরণ করে গত ১৫ নভেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকার গর্ভমেন্ট প্রেস কতৃর্ক সাপ্তাহিক গেজেটে প্রকাশ করেন যার স্মারক নং—৪৬.০০.০০০০.০১৭.৯৯.০১১.১৬.৫৬২। উক্ত গেজেটে ভুলবশতঃ ৯নং ওয়ার্ডের উত্তর সারোয়াতলীর স্থলে দক্ষিণ সারোয়াতলী লিপিবদ্ধ হওয়ায় গত ২৩ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ গর্ভমেন্ট প্রেস কতৃর্ক সাপ্তাহিক গেজেটে পুনরায় উত্তর সারোয়াতলী লিপিবদ্ধ করে ২য় বার গেজেট প্রকাশ করেন যার স্মারক নং—০৫.৪২.১৫০০.৭০১.০৫.০০৫.১৮—৪৭১। দুই দুইবার গেজেট প্রকাশিত হওয়া সত্বেও অফিস—আদালত ও নির্বাচন কমিশনার ওয়েবসাইটে সারোয়াতলী বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুঃখজনক ও সংবিধান পরিপন্থী কাজ বলে উল্লেখ করেন। বক্তারা আরো বলেন, মোগল আমল, বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আমাদের গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম সারোয়াতলী হিসেবে ছিল। হঠাৎ করে অজ্ঞাত কারণে গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম সারোয়াতলী পরিবর্তন হওয়ায় দীর্ঘ দিন লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরও বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম সারোয়াতলীর মধ্যে আমাদের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্বপ্ন জড়িয়ে আছে আমাদের আত্মমর্যাদার বিষয়। আমাদের রক্তের সাথে মিশে আছে সারোয়াতলী শব্দটি। গ্রাম ও ওয়ার্ডের নাম সারোয়াতলী বাস্তবায়ন না করে আমাদের উপর যে অন্যায় অবিচার করা হচ্ছে তার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে ৭নং পৃষ্ঠার ২৪নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে— বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত স্মৃতি নিদর্শন স্থান সমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
পরিশেষে এই ঘৃনিত কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত স্মার্ট কার্ড থেকে শুরু করে সকল দলিল পত্রাদি ও নির্বাচন কমিশনার ওয়েবসাইটে সারোয়াতলী লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান বক্তারা।

 

মন্তব্য করুন