নিউজ ডেস্ক

নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত ও সম্পাদক বক্কর!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে। গত ১৩ জুন সাড়ে তিন বছরের পুরনা আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নতুন কমিটি ঘোষণার। নেতৃত্ব নিতে নতুন করে একাধিক নেতার দৌঁড়ঝাপও লক্ষ্য করা গেছে। তবে কমিটির বিষয় সম্পূর্ণ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতেই। নতুন নেতৃত্ব নাকি পুরনোদের হাতেই কমিটি তুলে দেবেন একমাত্র তার ওপর-ই নির্ভর করছে। আগামীকাল ৭ জুলাই (রবিবার) মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিমুর রহমান ও নগর যুবদলের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি- এই ৫ জনের মধ্য থেকেই নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কোন কারণে মহানগর কমিটিতে ডা. শাহাদাত হোসেন না থাকলে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।

বর্তমান সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিতে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক নেতা হিসেবে যার নাম সামনে চলে আসছে তিনি ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘদিন বন্দর নগরীতে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। কঠিন সময়েই দায়িত্ব পালন করেছেন নগর বিএনপির আহ্বায়কের। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের ইমেজের সঙ্গে তুলনা করলে এই মুহূর্তে দলীয় নেতাদের মধ্যে তিনিই এগিয়ে আছেন। আবুল হাশেম বক্করও একই সময় দলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে।

দলের একটি অংশ বলছে, হামলা-মামলায় পাশে থাকার কারণে ডা. শাহাদাত-বক্কর ভক্তের সংখ্যা বেশি। তারা শাহাদাত-বক্করের হ্যাট্রিক চান। আবার অন্যদিকে, এরশাদ উল্লাহ ও নাজিমুর রহমানকে বসাতে চান ‘শাহাদাত বিরোধী’ কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন। তাদের কেউ কেউ যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকেও সাধারণ সম্পাদক বানাতে চান।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ কিংবা ১১ জনের কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তাদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২০ ডিসেম্বর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর সবার নজরে আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তখন ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন বর্তমানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ দু’জনের নেতৃত্বে কয়েক বছর মহানগরের কার্যক্রম চলার পর কিছুদিনের জন্য মহানগরের এ কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তখন সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে আহ্বায়ক করে নতুন একটি কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি ও নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম বক্করকে সাধারণ সম্পাদক করে সংক্ষিপ্ত একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১০ জুলাই ২৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এরপর ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ৩৯ সদস্যের এ কমিটিতে ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ দু’জন একত্রে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর কারণে দলের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনেকটা কমে আসে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা মামলার শিকার হয়েছেন, যারা জেলে গেছেন, তাদের প্রতিনিয়ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। এ কারণে কর্মীবান্ধব বলে পরিচিত ডা. শাহাদাত হোসেনের তৃণমূলে বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসার কারণে দলের ভেতরে তার একটি শক্তিশালী অবস্থানও রয়েছে। অপরদিকে সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করেরও দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তিনিও সবসময় দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্কর দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেন তারা। মোকাবিলা করেছেন হামলা-হামলা।

মন্তব্য করুন