নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চবি'র পঞ্চম সমাবর্তন আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনে অংশ নিতে ২২ হাজার ৫৮৬ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। বিশ্বের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে এত গ্র্যাজুয়েট নিয়ে সমাবর্তন হয়নি।
আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম নগরের প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ডি–লিট ডিগ্রি প্রদান করা হবে। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ ডিগ্রি প্রদান করা হবে।
এছাড়াও তিনি সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন৷ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সনদ নেবেন প্রায় ২৩ হাজার সমাবর্তী৷ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অতিথিসহ প্রায় ২৫ হাজার লোকের সমাগম হবে।
এদিন সমাবর্তীসহ প্রায় এক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে চবি ক্যাম্পাসে। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ৫ম সমাবর্তন আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, কমিটির সদস্য সচিব ও চবি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. মো. শহীদুল হক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৪/০৫/২০২৫ তারিখ দুপুরের খাবার সকাল সাড়ে ১০ থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে কুপন জমাপূর্বক সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
সমাবর্তনে অংশগ্রহনকারী সকলকে দুপুর ১ টার মধ্যে অবশ্যই অনুষ্ঠানের মূল প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে হবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে প্যান্ডেল ত্যাগ-করা যাবে না।
গ্র্যাজুয়েটদের ব্যক্তিগত কোন গাড়ী ১নং মূল গেইট (হাটহাজারী রোড) থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার জন্য ১নং গেইট থেকে বাসের ব্যবস্থা থাকবে।
গ্র্যাজুয়েটদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট যথা- ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট, জামেয়াতুল ফালাহ, পলিটেকনিক মোড় (ফ্লাইওভার থেকে নেমে) থেকে বাসের ব্যবস্থা থাকবে। সকাল ৬ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত বাসগুলো শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করবে এবং ক্যাম্পাস থেকে ফিরতি বাসগুলো বিকাল ৪.৩০ শুরু হয়ে রাত ১০.৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। শাটল ট্রেনের সময়সূচি। বটতলী স্টেশন থেকে ০৭১৫, ০৭:৪০, ষোলশহর স্টেশন থেকে ০৯:৩০, ১০:১৫ ও ১১:৩০ এবং ফিরতি ট্রেন ক্যাম্পাস থেকে ১৬:৪০, ১৮:২০ ও ২১:৪৫। সমাবর্তন দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সময়সূচি ও পরিবহন বিষয়ক বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (http://www.cu.ac.bd) পাওয়া যাবে।
যে সব গ্র্যাজুয়েট অঙ্গীকারনামা আপলোড করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন অথবা যাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড নাই, তারা অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা ফিস বাবদ ৩০০/- (তিনশত) টাকার পে-অর্ডার নিয়ে আসবেন, যা গাউন নেয়ার সময় অবশ্যই জমা দিতে হবে।
সনদ/মূল সনদের মূল (ঙৎরমরহধষ) কপি একটি খামে করে (খামের উপরে নাম, আইডি, বিভাগ/কলেজের নাম লিখতে হবে) নিয়ে আসবেন, গাউন নেয়ার সময় তা অবশ্যই জমা দিতে হবে। মূল সনদ/সাময়িক সনদের মূল (ঙৎরমরহধষ) কপি জমা দেওয়া ছাড়া গাউন সংগ্রহ করা যাবে না।
গ্র্যাজুয়েটগণ তাদের গাউন এবং মূল সনদ/সাময়িক সনদ ও অন্যান্য ডুকমেন্ট জমা-উত্তোলন এবং গিফট আইটেম ও খাবারের কুপন তাদের বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সংগ্রহ করবেন।
অধিভুক্ত কলেজসমূহের জন্য নির্দিষ্ট বুথ থাকবে। গ্র্যাজুয়েটগণ সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে যোগাযোগ করবেন।
চিকিৎসা অনুষদের অধীন মেডিক্যাল, নাসিং ও অন্যান্য কলেজসমূহের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, চবি।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমুহের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, চবি।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, চবি।
সিইউসিবিএ এর বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, বাণিজ্য অনুষদ, চবি।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, চবি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৪.৩০ টা থেকে রাত ১০.৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথে গাউন ফেরত দিয়ে মূল সনদ ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করবেন। যথাসময়ে অক্ষত অবস্থায় গাউন ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে সনদ সংগ্রহের সময় নগদ ৩ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদের প্রদত্ত টুপি গিফট হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ব্যাগ, ছাতা, ক্যামেরা, টেপরেকর্ডার বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।
আমাদের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে সাংবাদিক বন্ধুরা উপস্থিত হয়েছেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০টি অনুষদের অধীনে বর্তমানে ৪৮টি বিভাগ, ৬টি ইনস্টিটিউট এবং ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ হাজার ৫১৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক সংখ্যা ৯৯৬, কর্মকর্তা ৪৪৫, কর্মচারী (৩য় শ্রেণি) ৫৪৫ জন এবং কর্মচারী (৪র্থ শ্রেণি) ৯৮৩ জন। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ১৪টি হল রয়েছে। ছাত্রদের জন্য নয়টি, ছাত্রীদের জন্য পাঁচটি এবং হোস্টেল রয়েছে একটি। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি ছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম ফিল, পিএইচডি, এম.ডি, এম.এস (মেডিকেল সায়েন্স) উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।