স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি: রাজীব জাফর চৌধুরী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আমি, রাজীব জাফর চৌধুরী, প্রয়াত আলহাজ্ব জাফর আহমেদ চৌধুরী-এর পুত্র — যিনি ছিলেন ইউসিবি পিএলসি-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (ইঅই)-এর সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বান্দরবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সাবেক সভাপতি এবং জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা — আমি ও আমার প্রয়াত পিতার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে চাই।

২০০৭ সালের ৬ জানুয়ারি, আমার প্রয়াত পিতা আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দেন। সে সময় তিনি ইউসিবি’র চেয়ারম্যান ও পরিচালক ছিলেন। বিএনপিতে যোগদানের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে ব্যাংকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) ও চট্টগ্রাম-১৪ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসন থেকে নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেন। মাননীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজে তাকে ট্রাক প্রতীক প্রদান করেন। যেহেতু দলীয় প্রতীক আগেই অ্যাডভোকেট আবু তাহেরকে “ডামি প্রার্থী” হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তাই কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমার পিতা ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করেন।

২০১৩ সালে, যখন বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে তার বাসভবনের চারদিকে মাটি বোঝাই ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, তখন আমি ও আমার পিতা টানা তিন মাস তার পাশে অবস্থান করি। গণমাধ্যম তার বাসায় প্রবেশ করতে না পারায় আমরা আমাদের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ করে দিই। তিনি কেবল আমাদের রাজনৈতিক নেত্রীই নন, আমাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীও ছিলেন।

২০১৮ সালেও, একইভাবে যখন বেগম জিয়ার ও আমাদের বাসার চারপাশে ট্রাক দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, আমি একাই তার পাশে দাঁড়াই। আমার পিতা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপির প্রতি অবিচল ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি, বিএনপিতে যোগদানের ঠিক ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই ইহলোক ত্যাগ করেন।

আমি স্পষ্টভাবে বলছি — আমি কখনোই আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলাম না। আমার পিতাও বিএনপিতে যোগদানের পর আর কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা রাখেননি।

২০১৮ সালের ২১ নভেম্বর, আমি চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করি। তখন কেউ আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে নাই। তাহলে এখন — আমি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হওয়ায়, কেন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?

শৈশব থেকে আমি বেগম খালেদা জিয়া-কে শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে দেখে এসেছি। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমরা কোনো সুবিধা পাইনি — বরং বহুবার নিপীড়নের শিকার হয়েছি। খুলশি এলাকায় আমাদের ফ্ল্যাটগুলো আওয়ামী লীগপন্থী একটি গোষ্ঠী জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বিএনপির প্রতি আমাদের পারিবারিক আনুগত্যের জন্য আমরা মূল্য দিয়ে এসেছি।

সম্প্রতি আমি লক্ষ্য করেছি যে, আমাকে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে জড়িয়ে ভুয়া ছবি ছড়ানো হচ্ছে। আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও)-এর যুগে যে কেউ জাল ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে পারে। আমি এই ধরনের নোংরা, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমি সকলকে অনুরোধ করছি — এই ভিত্তিহীন গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না। আমার অবস্থান একদম স্পষ্ট: আমি বিএনপির একজন একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, এবং আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিলাম না।

এই বিবৃতির মাধ্যমে আমি আবারও আমার চিরন্তন, অবিচল ও বিশ্বস্ত আনুগত্য প্রকাশ করছি — বিএনপি ও এর নেতৃত্বের প্রতি, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবের প্রতি।

রাজীব জাফর চৌধুরী
সভাপতি, উত্তর সাতকানিয়া জাফর আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ ও আসমা মফজল গার্লস হাই স্কুল
স্পনসর পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি
স্পনসর, জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
চেয়ারম্যান, অরনেট রিয়েল এস্টেট লিমিটেড
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, অ্যাভান্তে অ্যাসথেটিক্স লিমিটেড
সদস্য, বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটি

মন্তব্য করুন