নিউজগার্ডেন ডেস্ক: স্বৈরাচার বিদায় হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন জন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ইস্যুগুলোকে রাজনৈতিক বলে চলিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানানো হয়, চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ দেশের একটি বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার। প্রাচীনতম এ বাজারে এখন চলছে চরম অরাজকতা। পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা এ বাজারে। প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে আরও বেশি। গত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তোলা হতো আর এখন ভাঙানো হচ্ছে বিএনপির নাম। অবস্থা এতই বিপজ্জনক যে, চাঁদা না দেওয়া হলে চালক-হেলপারদের মারধর করা হচ্ছে, এমনকি হুমকি দেওয়া হচ্ছে হত্যারও। আওয়ামীলীগ-বিএনপির ভাগাভাগি চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা, ব্যবসায়ীদের আতংকের নাম দিদার-আজগর সিন্ডিকেট। ১৭ বছরে আওয়ামীলীগের শাসন আমলে চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল অহরহ। নেপথ্যে ছিল দলীয় নেতাকর্মীরাই। কোটিপতি থেকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সকলেরই মাসে গুনতে হতো মোটা অংকের চাঁদা। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর সাধারণ ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল পাল্টে যাবে চাঁদাবাজির পটভূমি। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো ঘটনা। সরকার পরিবর্তনের পরপরই সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চাঁদাবাজির ঘটনা। বাণিজ্যের তীর্থস্থান খ্যাত চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশিই শিকার হয়েছেন এই চাঁদাবাজির।
নগরীর চাক্তাইর ৩৫ নং বক্সিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন মোঃ আলমগীর। দলীয় দাপট দেখিয়ে স্বৈরাচার সরকারের আমলে চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে গড়ে তুলেছেন চাঁদাবাজির রাজত্ব। ক্ষুদ্র থেকে বড় কোন ব্যবসায়ীই ছাড় পায়নি তার হাত থেকে। আলমগীরের বড় ভাই মো: আজগর যিনি নিজেকে পরিচয় দেন একজন ব্যবসায়ী হিসেবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই আজগরের রয়েছে অবৈধ মিটবনের ব্যবসা। এছাড়াও চোরাই মাল সহ ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে বিক্রি করেন মাছ ও মুরগীর খাদ্য। অবৈধ এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে টাকার বিনিময়ে নিজের ছোট ভাইকে পাইয়ে দেন বক্সিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের পদ। নিজেও ছিলেন যুবলীগের সক্রিয় সদস্য। একদিকে এক ভাইয়ের চাঁদাবাজি আর ক্ষমতা অন্যদিকে নিজের অবৈধ ব্যবসা সব মিলিয়ে আলমগীর-আজগর গং রাতারাতি বনে যান কোটি টাকার মালিক।
আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি ক্ষমতায় যে-ই আসুক না কেন,তার দাপটের কোন কমতি থাকে না। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলেও যেভাবে দাপটে ছিলেন এখনো ঠিক একই দাপটে। কারণ, তাদের একই পরিবারে রয়েছে আওয়ামীলীগ - বিএনপির অনুসারীর নেতৃবৃন্দ। আর সেই সুযোগেই নিজে অবৈধ সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে বনে যান কোটি টাকার মালিক।
৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পরও এখনো বন্ধ হয়নি আজগর-আলমগীর গংদের অবৈধ ব্যবসা ও ত্রাসের রাজত্ব। আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর এখন চাঁদাবাজির দায়িত্ব নিয়েছে তাদের আরেক ভাই মো. দিদার। এই দিদার নিজেকে পরিচয় দেয় যুবদল কর্মী হিসেবে। অনুসরণ করেন নগর বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতাদের। গত ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর দিদারের বড় ভাই যুবলীগ কর্মী আজগরের নির্দেশনায় আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেন এই দিদার। ৫ আগস্ট রাতেই চাক্তাইর এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা মারেন চাঁদার জন্য। ওই ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তার দলবল নিয়ে মহড়া দেন ওই দোকানের সামনে। পরে বড় অংকের চাঁদার বিনিময়ে দোকান খুলতে দেন ওই ব্যবসায়ীর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী জানান, "৫ আগস্ট রাতে তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন দিদার ও তার ভাই আজগর। তিনি রাজি না হলে দোকান কিভাবে খুলবে তারও হুমকি দেন"।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একাধিক ব্যবসায়ীকে সে আওয়ামীলীগ করার ভয় ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন। এছাড়াও যারা চাঁদা দিতে রাজি হতো না এমন ব্যক্তিদের তুলে দিতো তার পরিচিত প্রশাসনের লোকদের হাতে।
সূত্র বলছে, আওয়ামী সম্পৃক্ত থাকা ব্যবসায়ীরা এলাকা ত্যাগ করলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদেরকে এলাকায় পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেন এই দিদার, টাকা পয়সার মধ্যস্থা করতেন তারই ভাই যুবলীগ নেতা আজগর। ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ী টিপু, রিংকু বাবু,হ াসান সহ ১০ জনেরও অধিক ব্যবসায়ীকে চাঁদার জন্য মারধর করেন দিদার। বাদ পরেনি ট্রাক চালকও। শুধু চাঁদবাজিই নন ভূমি দখলেরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে দিদার সহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে। আজগর বিগত সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার ভাই আলমগীরের সহয়তায় রাজাখালী বিশ্বরোডের পাশে দখলে রাখেন একটি যানবাহন মাপার স্কেল। ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও বেদখল হয়নি ওই স্কেলটি কারণ তার ভাই দিদার এখন বিএনপির মস্তবড় নেতা।
আওয়ামী সরকার আমলে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় ইতিমধ্যে আজগরের অঢেল সম্পত্তি বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায় তথ্য সূত্রে। শুধু তা নয় আঁতংকে দিন কাটাচ্ছে এলাকাবাসি। এসবের সুরাহা পেতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় থানায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও রয়েছে। শুধু তা নয় চট্টগ্রাম আদালতে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা। শত শত অভিযোগের পর টাকার জোরে ক্ষমতা ব্যবহার করে এ-সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। আজগরের পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনেরও কথিত কয়েকজন কর্মকর্তা ও নামধারী গুটিকয়েক বিএনপির নেতা। সরাসরি আজগরের বিরুদ্ধে ভয়ে কথা বলতে নারাজ স্থানীয় লোকজন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী বড় ভাই ছিল আওয়ামী লীগের বড় নেতা এখন আরেক ভাই বিএনপির নেতা হওয়ার সুবাদে এ-সব অপকর্ম করতে সাহস পায়।
সালাউদ্দিন মাঝি চাক্তাইয়ের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তার ছেলে মোহাম্মদ সোহাগ ইসলামী আন্দোলনের সক্রিয় নেতা।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজগরকে ফোনে পাওয়া না গেলেও কথা হয় তার ভাই দিদারের সাথে, এসব ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে দিদার বলেন এসব ভিত্তিহীন নেই কোন প্রমাণ। তবে তাদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এসময় তারা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি কামনা করেন।