নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জ গণপূর্ত ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির রায়হানের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, তখন একইসাথে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে বাংলাদেশ ঠিকাদার সমিতি চট্টগ্রাম জোনের পক্ষ থেকে তাকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে ওঠার বিষয়টি ঘিরে দেখা দিয়েছে রহস্য ও প্রশ্ন।
প্রথমে ঠিকাদার সমিতি জহির রায়হানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে তার অপসারণের দাবি জানায়। তারা অভিযোগ করে, “প্রকৌশলী জহির রায়হান কোটি কোটি টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়া বিতরণ করে নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে কমিশন বাণিজ্য করছেন।” এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে দুদক এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনের কয়েক দিনের মধ্যে ঠিকাদার সমিতির চট্টগ্রাম জোনের নেতারা রহমতগঞ্জ গণপূর্ত কার্যালয়ে বৈঠকে বসে এবং তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে জহির রায়হানকে ‘রক্ষা করার’ প্রক্রিয়ায় নেমে পড়েন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এর পর থেকেই জহির রায়হানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ তোলা বা সংবাদমাধ্যমে তথ্য না দিতে ঠিকাদারদের মধ্যে চাপ প্রয়োগ শুরু হয়।
হঠাৎ এই অবস্থান বদলের কারণ কী?
সাধারণ ঠিকাদার ও পেশাজীবীদের প্রশ্ন, যে কর্মকর্তা বিরুদ্ধে অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে রাস্তায় মানববন্ধন হলো, দুদক ও অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করল, ঠিক সেই সময়ে কেন তাকে বাঁচাতে উঠে পড়ে লাগছে ঠিকাদার সমিতির নেতারা?
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার বিনিময়ে টেন্ডার ছাড়া কাজ পাওয়ার সুবিধা, কমিশন বাণিজ্য থেকে সুবিধা নেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কাজ ভাগাভাগি করার কারণেই অবস্থান বদল হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। সাধারণ ঠিকাদাররা বলছেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে ফায়দা নেওয়ার পর, এখন তদন্ত থামাতে বা মন্থর করতে জহির রায়হানকে রক্ষার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী।”
তদন্তের দাবি
চট্টগ্রামের সচেতন মহল মনে করছে, “এই রহস্য উন্মোচন করা জরুরি। কে বা কারা জহির রায়হানকে বাঁচাতে চাইছে, কার স্বার্থে তদন্তের গতি নষ্ট হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা উচিত।” তারা বলেছেন, “দুদক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের তদন্ত যাতে কোনো চাপ ও প্রভাবমুক্তভাবে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করা এখন প্রয়োজন।”