নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন বলেছেন, গণতন্ত্র এখনও নিরাপদ নয়, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন কবে হবে এটি নিয়ে নানা ধরণের গোজামিল দেখতে পাচ্ছি। দেশে নির্বাচন ঠেকানোর জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য যেটি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে নির্বাচন। সে নির্বাচন বিলম্বিত হওয়া মানে ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ দেওয়া। ক্রমান্বয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের নানা ধরনের দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। সমাজের মধ্যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলার প্রচণ্ড অবনতি দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা জটিল হচ্ছে।নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সরকার গঠন না করলে এসব সমস্যা আরও বাড়বে।
তিনি বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বোয়ালখালী হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার কামাল চৌধুরীর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার কামাল চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতি চারণ করেন এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
দোয়া মাহফিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
এসময় ইয়াছিন চৌধুরী লিটন বলেন, শহীদ জিয়া ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানি বাহিনী বাঙ্গালির ওপরে ঝাপিয়ে পড়ল তখনও ৫ আগষ্টের মতো আওয়ামী লীগ পালিয়েছিল। ঐসময় শহীদ জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে বোয়ালখালীর কৃতি সন্তান আকতার কামাল চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল তখনো ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে শহীদ জিয়া দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর এই জাতির ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাচা চেয়ারম্যানকে গুম করেছে। তারা হত্যা, গুম খুন করেছে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। কিন্তু জুলাইয়ে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই অবস্থান থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। আমরা আশা করব, অন্তর্র্বতী সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কারগুলো করে অতি দ্রুত নির্বাচন দেবে।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইসহাক চৌধুরী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার কামাল চৌধুরীদের মেধা, শ্রম, ত্যাগের বিনিময়ে বোয়ালখালী বিএনপি আজকে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে।আওয়ামী লীগের অবৈধ শাসনামলে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে কঠিন সময়ে রাজনীতি করেছেন। বর্তমান সময়ে আকতার কামাল চৌধুরীর মতো অবিভাবকের খুবই প্রয়োজন ছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হামিদুল হক মান্নান চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোতে জনগণের স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়েছে সবার সঙ্গে আলোচনা ভিত্তিতে। যাতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসা যায়। বিএনপির ৩১ দফার মাধ্যমেই দেশের আমূল পরিবর্তন সম্ভব।
ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. বখতিয়ার উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বোয়ালখালী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মহসিন খোকনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. ইসহাক চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মান্নান চেয়ারম্যান। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার এস এম তারেক, আবদুল করিম, শেখ মনির উদ্দিন, এম কপিল উদ্দিন, আরিফ চৌধুরী ছোটন, হাসান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সায়েম উদ্দিন টিটু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল আবসার আশিক, পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম চৌধুরী মানিক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আরেফিন রিয়াদ, যুগ্ম আহবায়ক এস,এম নয়ন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জাহেদুল আলম চৌধুরী রাসেদ, নজরুল ইসলাম, পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কপিল উদ্দিন, ওমর ফারুক, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য শাহাদাৎ হোসাইন জিকো, বোয়ালখালী উপজেলা ছাত্রদল নেতা আরমান আলম, বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ হোসাইন প্রমুখ।