নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী বড়গাং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ বৌদ্ধ ধর্মীয়গুরু বিজয়ানন্দ ভিক্ষু বলেছেন, শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষে নয়, তাদের আচরণ, সততা ও মানবিক গুণাবলি দিয়েও সমাজকে আলোকিত করবে। তাদের প্রতিভা যেন দেশ ও জাতির সম্পদ হয়ে ওঠে, সেই আশাই আজকের এই আয়োজনের মূল প্রেরণা। বুদ্ধের অহিংসা হলো শুধু প্রাণী হিংসা থেকে বিরত থাকা নয়, সকলের প্রতি প্রীতি বহন করা, কল্যাণ চিন্তা করা, পরার্থে আত্মনিবেদিত থাকা। বুদ্ধের মতো এমন আত্মত্যাগীর পক্ষে সম্ভব প্রাণীর প্রতি করুণাঘন হৃদয় বিতরণ করা। পৃথিবীকে আমরা মৈত্রী হৃদয়ে ভরিয়ে দিই। জগতের সব প্রাণীর সুখ-শান্তি কামনা করছি। মানবের দুঃখ মুক্তির জন্য বিভিন্ন উপায় রয়েছে, যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আত্ম-সচেতনতা, ইতিবাচক চিন্তা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও দুঃখ মুক্তির পথ খোঁজা যেতে পারে।
আজ ৮ আগস্ট (শুক্রবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ ১৩ আ/ এলাকাতে বৃহত্তর বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারে ৩৬তম শুভ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও শ্রাবনী পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষ্যে ভিক্ষুসংঘের বর্ষাবাসিক সংঘদান, অস্ট পরিষ্কার দান, বুদ্ধ মূর্তি দান, কল্পতরু দান, বুদ্ধ পূজা এবং অত্র বিহারের দায়ক/ দায়িকাদের চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫ এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ড পাস শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শ্রাবণ মাস মানেই ঘোর বর্ষা ঋতু। আকাশ কালো করে যখন তখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, ময়ূরদের পেখম মেলে নাচ, রাস্তাঘাটে থৈ থৈ জল, ধানক্ষেতে নতুন ধানের চারার জন্ম হওয়া এবং শ্রাবণ মাস মানেই পুণ্যার্থীদের কাছে আরাধনা।
বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ভদন্ত বিজয়ানন্দ ভিক্ষুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠনে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত সাধনাজ্যোতি মহাথের, অধ্যক্ষ হিলচাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, ড. দীপংকর মহাথের, অধ্যক্ষ বন্দর সরকারী বৌদ্ধ বিহার, উপাধ্যক্ষ ভদন্ত ধর্ম কীর্ত্তি ভিক্ষু বড় গাং বৌদ্ধ বিহার, ভদন্ত ধর্মদর্শী ভিক্ষু, অধ্যক্ষ জুম্ম চাদিগাং বৌদ্ধ বিহার, ভদন্ত কুমার কশ্যপ ভিক্ষু উপাধ্যক্ষ বড়গাং বৌদ্ধ বিহার, ইঞ্জিনিয়ার হেম চন্দ্র চাকমা সহ প্রমুখ ভিক্ষুসংঘ।
কৃতি শিক্ষার্থীরা হলেন থুজা চাকমা, তরি চাকমা, পূজা চাকমা, জোনা চাকমা, লক্ষী চাকমা, রেটিনা চাকমা, কীর্ত্তিকা চাকমা, গারব চাকমা, অভি চাকমা, কুশল চাকমা, হিলারি চাকমা, নিসুতি চাকমা, সুনম্র চাকমা, ছাবা চাকমা, সুমনা চাকমা, মং এ মং মারমা, তনুশ্রী চাকমা।
অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল ৮:১৫ মিঃ উপাসক-উপাসিকারগণ বিহারে আগমন, ৮:৫৫ মিঃ বুদ্ধ পূজা প্রস্তুত করন, ৯:১৫ মিঃ গাথা পাঠ সহকারে বুদ্ধের পূজা উত্তোলন করন, ৯:৩০ মিঃ পঞ্চশীল গ্রহণ,
৯:৫৫ মিঃ বিশ্বমৈত্রী বৌদ্ধ বিহার এর ৩৬তম পদার্পনের স্মৃতিচারন, ১০:৩০ মিঃ শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২০২৫ বোর্ড পরীক্ষায় পাস শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ১০:৪৫ মিঃ ভিক্ষুসংঘ কর্তৃক শ্রাবনী পূর্ণিমার তাৎপর্য ব্যাখ্যা, ১১:২০ মিঃ দানীয় সামগ্রীক উৎসর্গ করন, ১১:৩০ মিঃ ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও পঞ্চশীল গ্রহণ। এ শুভ দিনে পূণ্যাংশ ভাগিদার হওয়ার জন্য আপনাকে স্বপরিবারে আহ্বান জানানো হয়।






