আশ ফাউন্ডেশনের নামে মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট নিউজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন এর নামে মনগড়া, মিথ্যা, বানোয়াট নিউজের বিরুদ্ধে আজ ৯ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম লালখান বাজার চট্টগ্রাম ক্লাবের বিপরীতে কুক আউট রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, সম্প্রতি কিছু ইংরেজী অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান কার্যালয় অধিভুক্ত এনজিও বিষয়ক ব্যূরো অনুমোদিত সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন ও এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে ঘিরে চরম বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। BLITZ , Highlandpost, Organiser নামীয় অনলাইন পোর্টাল এবং কিছু ফেসবুক পেইজ “বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেপাল”, “ভয়েস অফ বাংলাদেশি হিন্দুস”, “মানুষ ঝুমন দাশ”সহ একাধিক ভূয়া পেইজ থেকে আশ ফাউন্ডেশন ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন এর নাম ব্যবহার করে নেপালে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে জঙ্গিবাদ, ধর্মান্তর এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করার অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়। শুরুতে আমরা এই ধরণের মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিমূলক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, সম্প্রতি নেপালের সুনসারি জেলার ইনারাওয়া এলাকায় “মসজিদে রাজ্জাক” নামক একটি মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধনে ফাউন্ডেশনটি সহযোগিতা করেছে। এই মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেপালের স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. ইসরাইল একাধিক, ওয়ার্ড সভাপতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা এই মহতী উদ্যোগের জন্য আশ ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশ্ববর্তী মাদ্রাসা ও নিকটস্থ এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপযুক্ত ইবাদাতের স্থান না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা একটি মসজিদের আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। এই মসজিদ নির্মাণ তাদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার একটি অংশ মাত্র, এটি ধর্মান্তর বা কোনো উগ্র কার্যক্রমের সঙ্গে কোনাভাবেই সম্পর্কিত নয়। বরং এটা আন্তঃধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। পুরো নেপালে মাত্র ৫% মুসলিম হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ৫০% মুসলিম জনসংখ্যা বসবাস করেন। বলা বাহুল্য, এই প্রকল্পটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুরোধে ও সেখানের স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদনে শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত একটি মানবিক ও অরাজনৈতিক এনজিও। এ ছাড়া এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সদস্য এবং জাতিসংঘের ইকোনোমিক এন্ড স্যোশাল (UN ECOSOC) এর স্পেশাল কন্সালটেটিভ স্ট্যাটাস প্রাপ্ত একটা সংস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশনটি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।

প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন, যিনি একাধারে আশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কর্তৃক নিযুক্ত জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সদস্য ও জেলা এনজিও সমন্বয়ক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনটি বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে কাজ করে চলেছে। ফাউন্ডেশনটি শুধু মুসলিম নয়, সকল ধর্মের মানুষদের সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, রিপোর্টের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কিঞ্চিৎ জানিয়ে রাখছি, মুসলমানদের পাশাপাশি এই ফাউন্ডেশনের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর বহু উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল ২০২২ ও ২০২৪ সালে ফেনী ও সিলেটের বন্যাদুর্গত হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং অনেকের জন্য ঘর, টয়লেট নির্মাণ ও নলকূপ স্থাপনে সহায়তা প্রদান করে। এই ফাউণ্ডেশন দুর্গাপূজার সময় চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলোতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু রাখে যাতে মানুষ দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে। এই কার্যক্রমগুলো আশ ফাউন্ডেশনের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দায়িত্ববোধ্রে দুয়েকটা বাস্তব উদাহরণ মাত্র। সহযোগিতার আড়ালে বা লোভ দেখিয়ে ফাউন্ডেশন কখনোই কোনো ধর্মান্তর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন, যিনি আশ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, একজন স্বনামধন্য সমাজসেবক। তাঁর নেতৃত্বে আশ ফাউন্ডেশন স্বশরীরে তুরস্ক, মরক্কো ছাড়াও নির্যাতিত গাজাবাসীর সেবায় নানাবিধ জরুরী মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাথে সাথে পার্বত্য অঞ্চল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানবিধ জরুরী মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। গতানুগতিক বিবিধ মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্ত্বে দেশের জনকল্যাণে ফাউন্ডেশনের বহু ইনোভেটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন উপকৃত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ইনোভেটিভ আইডিয়া ও আন্তরিক প্রয়াসে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত দুয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হলোঃ
ক্স ২০২২ সালে সিলেটের ভয়াবহ বন্যার সময় স্থাপিত হয় “দেশের প্রথম ভাসমান পানি বিশুদ্ধকরণ ও বিনামূল্যে বিতরণ প্রকল্প” । অদ্যাবধি চলমান এ প্রকল্প থেকে এখনো দৈনিক ৩ হাজার মানুষ সুপেয় পানি পেয়ে উপকৃত হচ্ছে।
ক্স সাতক্ষীরায় স্থাপিত “দেশের প্রথম ভাসমান মসজিদ, মসজিদে নুহ আলাইহিসসালাম” ।
ক্স চট্টগ্রাম মেডিকেলে গরীব ও দুঃস্থদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাফনসহ লাশ গোসলখানা “শেষ স্পর্শ” ও একই মেডিকেলের সকলের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চলমান বিশুদ্ধ পানির প্রকল্প।
ক্স যৌতুকবিরোধী ও নারীর অধিকার মোহরানা আদায়ে এক ফলপ্রসূ ও প্রশংসিত কর্মসূচী “বিয়ে আপনার খরচ আমাদের” ।
এছাড়া দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-লিংগ নির্বিশেষে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য প্রতিদিন দুপুরে বিনামূল্যে খাবার নিয়ে উন্মুক্ত “মেহমানখানা”, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিয়ে “হ্যালো হসপিটাল”, চট্টগ্রাম শহরে আগত ভর্তি পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসা সেবা নিতে আসাদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে “মুসাফিরখানা”, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য “মজার পাঠশালা”, সম্মানিত প্রবাসীদের সেবায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে চলমান আশ ফাউন্ডেশন মাইগ্রশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রদত্ত “প্রবাসী বুথ সেবা” সহ দেশজুড়ে আরো বহু মানবিক প্রকল্প থেকে প্রতিদিন উপকৃত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। দেশ-বিদেশের যে কোন দূর্যোগে উদ্ধারকাজ ও জরুরী মানবিক সহযোগিতা নিয়ে দূর্যোগের ভয়াবহ সময়ের একেবারে শুরুতেই আশ ফাউন্ডেশনের অংশগ্রহণ ইতোমধ্যে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। আশ ফাউন্ডেশনের এসব বিবিধ মানবিক কর্মসূচী সম্প্রসারিত করতে এ পর্যায়ে আমরা মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিক/ দায়িতশীলগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, অথচ কিছু উগ্র ও বিভ্রান্তিকর গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেপালের একটা ক্ষুদ্র মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে আশ ফাউন্ডেশন এবং এর চেয়ারম্যানকে আইএসআই, ওবামা প্রশাসন, ইসলামোফ্যাসিস্ট, এমনকি জিহাদিস্ট নেটওয়ার্কের সাথে জড়িয়ে একটি চরম অসত্য প্রচার চালাচ্ছে। Blitz I Organiser-এর মতো পোর্টালগুলো হাস্যকর এবং তথ্যবিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে ফাউন্ডেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাস্তবতা হলো, এ ধরনের সংবাদে উল্লিখিত তথ্যের কোনো প্রমাণ নেই। তদুপরি সাংবাদিকতার ন্যুনতম রীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার সাথে কথা না বলে তিনি মনগড়া রিপোর্ট করেছেন। উপরূন্ত নিউজ প্রকাশের পর এ বিষয়ে জানতে শোয়েব চৌধুরীকে ফোন করলে তিনি আমাদের বা আশ ফাউন্ডেশন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান এবং প্রকাশিত নিউজের স্বপক্ষে কোন উপযুক্ত প্রমাণ বা যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, বিতর্কিত এই সাংবাদিক সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরী, ২৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে তার সম্পাদিত Weekly Blitz- নামক পত্রিকায় “Terror Without Border : Rising ISI Backed Radicalization in Nepal” নামীয় আর্টিকেলে লিখেছেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তথাকথিত একটি “ইসলামী অভ্যুত্থান” ঘটেছে, যা নাকি US Deep State, বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন, জর্জ ও আলেকজান্ডার সোরস, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ওঝও-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও মিথ্যাভাবে দাবি করা হয়েছে যে, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘটনার পৃষ্ঠপোষক এবং বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী জনগণের ওপর জঙ্গি হামলা বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, একই নিউজে, শোয়েব আরও মিথ্যাচার করে লিখেছেন, “আশ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নেপালে ‘দীর্ঘ মেয়াদী ধর্মান্তর প্রকল্প ও নেপালের ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ঘটবে”। নিউজের শেষদিকে “তিনি এই মসজিদ নির্মাণ ও মানবিক কাজের আড়ালে এই ফাউণ্ডেশনকে সন্ত্রাসী জংগী গোষ্ঠী ও ওঝও এর সাথে সম্পৃক্ত দাবী করে দ্রুত নেপালের গোয়েন্দা সংস্থা ও কুটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে এসব বন্ধ করার দাবী জানান”।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, বাস্তবতা হলো, আশ ফাউন্ডেশন একটি নিবন্ধিত মানবিক ও অরাজনৈতিক এনজিও, যার মূল লক্ষ্য হলো দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরিব, সুবিধাবঞ্চিত, ও দুর্যোগপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো। সুনসারীতে নির্মীয়মান মসজিদ বা আশ ফাউন্ডেশন কোনোভাবেই উগ্রবাদী কার্যক্রমের অংশ নয়, বরং এটি একটি ছোট, গ্রামীণ মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থনার স্থান, যা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অনুমতি নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

ভিত্তিহীন এই নিউজে আরও দাবী করা হয়েছে, আশ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের পিছনে পাকিস্থানের ওঝওঝ, তুরস্ক ও মিডল ইস্টের নির্বাচিত দেশ সমূহ রয়েছে। এই মসজিদ নির্মাণ শেষ হলে এটি শুধুমাত্র মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, বরঞ্চ অষ-ছধবফধ, হামাস, লশকর ই তৈয়িবাহ, তেহরিক ই তালিবান জঙ্গি সংগঠনগুলোর জিহাদী নেটওয়ার্কের জন্য লজিস্টিক সেন্টার ও রিক্রুটমেন্ট সেন্টার হিসেবে কাজ করবে”।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, এটি সবচেয়ে মানহানিকর, উগ্র বিদ্বেষমূলক সম্পূর্ণ বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নেপাল ও বাংলাদেশের চমৎকার সৌহার্দমূলক সম্পর্ককে বিনষ্ট করার চরম অপচেষ্টা। মূলত এই মসজিদ স্থানীয় মুসলিমদের জন্য শুধুমাত্র একটি ইবাদাতের কেন্দ্র। আশ ফাউন্ডেশন কখনোই কোনো জঙ্গি, রাজনৈতিক বা সামরিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। নেই ও আগামীতেও থাকবে না। তাকে প্রকাশিত এই বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে এই বক্তব্যের স্বপক্ষেও কোন তথ্য প্রমাণাদিও তিনি দিতে পারেননি।
আশ ফাউন্ডেশন বা আমাদেরকে না চিনে, না জেনে, সাংবাদিকতার ন্যুনতম রুলস না মেনে এ হেন নিউজের কারণ কি? কে এই শোয়েব চৌধুরী ? তিনি কী কারণে এ নিউজ করেছেন? অনলাইনে খুজতে গিয়ে এই সাংবাদিক শোয়েবের সম্পর্কে জানতে পেয়ে আমরা যারপরনাই হতবাক।
কে এই শোয়েব চৌধুরী?
সিলেটে জন্ম নেয়া সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর নিত্য নৈমত্তিক কাজই হলো বাংলাদেশ ও ইসলাম ধর্মের বিষোদাগার করা। দেশ বিরোধী গোয়েন্দা হিসেবে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় ইতোমধ্যে তিনি ২০০৩ সালে, ২০০৯ সালে ও ২০১৫ সালে গ্রেফতার হয়ে একবার ৭ বছর আরেকবার ৩ বছর সহ নানান দীর্ঘ মেয়াদে জেল খেটেছেন।।
সামগ্রিক পুরো বিষয়টা জেনে এটা দিবালোকের মতো স্পস্ট যে, এই বিতর্কিত ও তথাকথিত সাংবাদিকের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় বিষয়গুলোকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করছেন। বিশেষ করে নেপালের মতো সংবেদনশীল প্রতিবেশী রাষ্ট্রে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়ে তিনি এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন, যাতে একটি তৃতীয় দেশ কৌশলগতভাবে সুবিধা নিতে পারে। এ ধরনের প্রোপাগান্ডা শুধু বাংলাদেশের প্রতি একটি দেশের অবিশ্বাস জন্ম দেয় না, বরং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলে। এই তথাকথিত সাংবাদিক একজন দীর্ঘদিনের বিতর্কিত চরিত্র, যিনি দেশ বিরোধী কারো অর্থায়নে এবং সহযোগিতায় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছেন। তাঁর সমস্ত কর্মকাণ্ড একটি সুপরিকল্পিত অপতৎপরতার অংশ, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চিত্রিত করা, যাতে রাষ্ট্রটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে আরো জানান, আশ ফাউন্ডেশন সব সময় বাংলাদেশের আইন ও নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সকল কাজ পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তাই করবে। ফাউন্ডেশনটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রেখে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সত্যিকারের উন্নয়নের পথ। আমরা আরো বিশ্বাস করি, দেশজুড়ে মানবিক কর্মসূচী বিস্তারে স্বেছাসেবী ও মানবিক সংস্থাসমূহের পাশাপাশি আপনারা সাংবাদিকবৃন্দ নিজ্রোই আলাদা এক বিরাট মানবিক কাজের আধার। আপনাদের মিডিয়ার আন্তরিক নিষ্ঠাবান হৃদয়গ্রাহী মানবিক রিপোর্ট/ প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন উপকৃত হচ্ছে। এ সমস্ত সম্মানিত সাংবাদিকগণকে আশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা শ্রদ্ধা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, আমরা গণমাধ্যম, নীতি-নির্ধারক ও সাধারণ মানুষকে বিনীত অনুরোধ জানাই, যাচাই-বাছাই ছাড়া ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে দয়াকরে বিরত থাকুন। যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একইসাথে মিথ্যা ও দেশবিরোধী সংবাদ ছেপে একাধিকবার রাষ্ট্রেদ্রোহী অভিযোগেও অভিযুক্ত সাংবাদিক নামধারী এই সালাউদ্দীন শোয়েব চৌধুরীর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি ও নিয়মিত মিথ্যা, বানোয়াট সংবাদ ছাপানোর দায়ে তাঁর এই BITZ পত্রিকার নিবন্ধন বাতিলসহ যথোপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি। এতদবিষয়ে আমরা আইনীভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস, রেজাউর রহমান, জুবাইর উদ্দিন, স্বরূপ মজুমদার, তানভীর সিকদার।

মন্তব্য করুন