অধ্যাপক শাব্বির আহমদ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া আর কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের মধ্যে ১৫১টি দেশ অর্থাৎ প্রায় ৭৬ শতাংশ দেশের স্বীকৃতি পেল ফিলিস্তিন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশ ফ্রান্সসহ আরো কয়েকটি দেশ। ফ্রান্স স্বীকৃতি দিলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্যদেশের মধ্যে চারটি দেশেরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। গত ২৮ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ট্রাস্টি কাউন্সিলের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সম্মেলন। জাতিসংঘের ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করে ফ্রান্স ও সৌদি আরব। সম্মেলেনে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সম্মেলনের সহ-সভাপতি জঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছিলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবেন। তাঁর মতে, জাতিসংঘের অধিবেশনে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য দেশগুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।
পশ্চিমা বিশ্বের হঠাৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিযোগিতা দেখে সচেতন মহলের কৌতুহলের শেষ নেই। অনেকের মনে হতে পারে, ৭৮ বছর পর এটি হয়তো তাদের নৈতিক জাগরণের ঘোষণা কিংবা গাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে যেন পশ্চিমা বিবেক জেগে উঠেছে, যেন এই প্রথম তারা মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে চলেছে। কিন্তু পশ্চিমা কূটনৈতিক ভঙ্গিমার পর্দা সরালে যা দেখা যায় তা হলো, এটি এক ধরনের নাটক, ইসরায়েলি বর্বরতা ঢাকার জন্য একটি কৌশলমাত্র। বলার অপেক্ষা রাখেনা, তদানিন্তন গ্রেট বৃটেনের প্রত্যক্ষ মদদে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের বুকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্ম হলেও আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্বের মদদে সবদিক দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করে ইসরায়েল আট দশক ধরে ফিলিস্তিন ও আরদের রক্ত নিয়ে খোলি খেলছে। রাষ্ট্র হিসেবে বহু দেশ কর্তৃক ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন থাকলেও কাগজে কলমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বলে আসলে কিছু নেই। এটি প্লেটোর কাল্পনিক রাষ্ট্রের ধারনার নামান্তর মাত্র। এখানে যে রাষ্ট্রের কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে রাষ্ট্র নয়। এটি একটি নিরস্ত্র ও বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যার নিজস্ব সীমান্ত নেই, আকাশসীমা নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা নেই, সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, চলাচলের স্বাধীনতাও নেই, রাজধানী বা নিজস্ব সেনাবাহিনীও নেই। এটি মূলত এক ধরনের ভূতের প্রশাসন, যা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত; উদ্দেশ্য শুধু একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও দখলকৃত জনপদকে সামলানো।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফিলিস্তিন ইস্যুকে আরব ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এক কূটনৈতিক সেতু হিসেবে দেখছেন। ম্যাক্রোঁ নিজেকে যেন নতুন শার্ল দ্য গলের (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে মুক্ত ফরাসি বাহিনীর নেতৃত্বদানকারী) ভূমিকায় তুলে ধরতে চান। যদিও ফ্রান্স একসময় ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রচুর সহায়তা করেছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমনের পর সহানুভূতি জানাতে তেল আবিব ছুটে গিয়ে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের ঘোষণা দেন এবং হামাসকে নির্মূল করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনেরও আহ্বান জানান। সেই মাক্রোঁ চলতি বছরের শুরু থেকেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে বারবার বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনার জন্ম দেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে এযাবৎকালের সবচেয়ে ইসরায়েল ঘেঁষা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী মনে করা হয়। তাঁর স্বীকৃতির ঘোষণাকে বিশ্লেষক মহল একটি বিভ্রান্তিমূলক পদক্ষেপ মনে করে থাকে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতি তার নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণে ব্রিটেনে তাঁর প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। আর এ অবস্থায় জেরেমি করবিন ও জাহরা সুলতানার নেতৃত্বে গঠিত নতুন বামপন্থি দলের উত্থান তাঁকে ইতিমধ্যেই চাপে ফেলেছে। তাই স্বীকৃতির ঘোষণাকে তিনি ব্যবহার করেছেন একটি কৌশল হিসেবে। অবশ্য গত ২৮ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ট্রাস্টি কাউন্সিলের চেম্বারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সম্মেলনে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছিলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি বিষয়ে ব্রিটেনের ‘বিশেষ দায়’ রয়েছে। 'বিশেষ দায়' বলতে তিনি ‘বেলফোর ঘোষণার’ দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশ সুরক্ষায় ফিলিস্তিনের বুকে জায়নিস্ট উপনিবেশ শুরু হয়। উল্লেখ্য, বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের কথা বলা হয়েছিল। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক প্রয়াস চলমান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। আর এর মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ দখল যত বেড়েছে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান কথাটি দিনদিন ফাঁকা বুলি হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব এ স্বীকৃতি ইস্যুকে ব্যবহার করছে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব বিশ্বের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ভিত্তি হিসেবে। মুহাম্মদ বিন সালমান পশ্চিমা বিশ্বের এই স্বীকৃতি দ্বারা আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে আরও গভীরভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম চুক্তির দিকে টেনে নিতে চাচ্ছেন।
'প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন' (পিএলও) প্রধান ইয়াসির আরাফাত ১৯৯৩ সালে তদানিন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের চাপের মুখে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ৭৮ শতাংশ অংশ ছাড় দিয়ে বাকি ২২ শতাংশ—ওয়েস্ট ব্যাংক, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম—নিয়ে তদানিন্তন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজের সাথে আলোচনায় বসে অসলো চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিদানে ফিলিস্তিন নামে একটি রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু শরণার্থী সমস্যা, জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ, ইহুদি বসতি বন্ধ, সীমান্ত চিহ্নিতকেরণ—এইসব মূল ইস্যুগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয় ‘চূড়ান্ত আলোচনার’ অজুহাতে। এদিকে ইসরায়েল তার নিয়ন্ত্রণ আরও গভীর করে তোলে। বাড়তে থাকে বসতি। নির্মিত হয় ‘অ্যাপারথেইড দেয়াল’। ওয়েস্ট ব্যাংক ভাগ হয়ে যায় বিচ্ছিন্ন ক্যান্টনে। গাজাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ওসলো থেকে জন্ম নেওয়া তথাকথিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ হয়ে পড়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তার সাব-কন্ট্রাক্টর অর্থাৎ নিজের জনগণকেই দমন করার দায়িত্বে নিয়োজিত। স্বাধীনতার বদলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্যে জোটে অবরুদ্ধতা। সার্বভৌমত্বের বদলে তারা পেয়েছে নজরদারি। এটা কখনোই ছিল না শান্তি প্রক্রিয়া—এ ছিল ‘শান্ত রাখার প্রক্রিয়া’। আর প্রতিবার যখন ফিলিস্তিনি আন্দোলন গতি লাভ করে—প্রথম ইন্তিফাদা, দ্বিতীয় ইন্তিফাদা কিংবা বর্তমানে গাজা নিয়ে যখন বিশ্বব্যাপী ক্ষোভ বাড়ছে তখনই পশ্চিমা বিশ্ব একই স্ক্রিপ্ট হাজির করে বলছে, ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ ফেরত আনা হোক। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য নয়, বরং চাপের মুহূর্তে আন্দোলনকে গলা টিপে মেরে ফেলার আরেক দফা কূটনৈতিক নাটক। এই মুহূর্তেও আমরা সেটাই প্রত্যক্ষ করছি।
গাজায় বর্তমানে চলমান মানব ইতিহাসের সবচেযে ঘৃণ গণহত্যা ও জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বন্ধ, কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ দূর বা অবরোধকারীদের শাস্তি দেওয়ার বদলে পশ্চিমারা নেমে পড়েছে এক কাল্পনিক রাষ্ট্র গঠনের খেলায়। ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানি এখনও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। তাদের রাজনৈতিক সমর্থন এখনও ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার’ নামক ছাতার নিচে অটল। এমনকি, যখন ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার অধিকারও মুছে ফেলা হচ্ছে তখনও। অস্ত্র ও অর্থ যাচ্ছে আগের মতোই। মিথ্যাও চলছে আগের মতোই। যদি পশ্চিমারা সত্যিই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে বিশ্বাস করত, তা হলে প্রথমে তারা ইসরায়েলে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা বন্ধ করত। যে সহায়তার বলে অবৈধ দখলদারি ও ইহুদি বর্ণবাদ টিকে আছে। অতএব, শাস্তি ছাড়া স্বীকৃতি কোনো অগ্রগতি নয়। এটা শুধু সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কৌশল। আমরা এই নাটক আগেও দেখেছি। এটি এক অন্তহীন ‘প্রক্রিয়া’। যার কোনো গন্তব্য নেই। গত জানুয়ারিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছিল । মার্চে এসে ইসরায়েল নিজেই সেই চুক্তি ভেঙে দেয়। এর পর আরো অনেকবার ‘শান্তি আলোচনার’ নাটক মঞ্চস্থ হয়। আর এর ফাঁকে চলতে থাকে হত্যাযজ্ঞ এবং একের পর স্থাপনা ও জনপদের ধ্বংস সাধন। সর্বশেষ শান্তি আলোচনা চলাকালে গত ৯ সেপ্টেম্বর কাতারে অবস্থানরত হামাস নেতৃবৃন্দকে হত্যা করতে ইসরায়েল ভয়াবহ বিমান হাসলা চালায়। আর এখন তো ইসরায়েলের সরকারি পর্যায়ে থেকেই বলা হচ্ছে : ‘গাজা হবে ইহুদিদের।’
ম্যাক্রোঁ আর স্টারমার একদিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কথা বলছেন, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করতে ইসরায়েলে দেদারসে অর্থ ও অস্ত্র পাঠাচ্ছেন। যদি পশ্চিমা বিশ্ব গণহত্যা থামাতে না চায়—যদি তারা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ না করে, অর্থ বন্ধ না করে, এমনকি ইসরায়োলের যুদ্ধাপরাধের জন্য একটি শাস্তিও আরোপ না করে—তা হলে তাদের স্বীকৃতি ঘোষণা কোনো অর্থ বহন করে না। আর এই পদক্ষেপহীন স্বীকৃতি কোনো কূটনীতি নয়, বরং তা অপরাধে সহভাগী হওয়া। বরং তারা এই হত্যাযন্ত্রেরই অংশ। তাই যারা স্বীকৃতির নামে যারা ভাঁওতাবাজী প্রচার করছে তাদের প্রতি কয়েকটি সরল প্রশ্ন, এই তথাকথিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বাস্তবে কোথায় প্রতিষ্ঠিত হবে? গাজায়? সেটা তো ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। ওয়েস্ট ব্যাংকে? সেটা তো দেয়াল ও বসতিতে ভাগ করা হয়েছে। জেরুজালেমে? যা দখল ও জাতিগত নির্মূলের শিকার। জর্ডানে? সিনাইয়ে? সৌদি আরবে? নাকি নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গ করে বলা মঙ্গল গ্রহে? যদি ১৯৬৭ সালে দখল করা জমিতেই রাষ্ট্র গঠনের কথা হয়, তা হলে আগে দখলদারের বিরুদ্ধে শাস্তির উদ্যোগ নিতে হবে। আর যদি অন্য কোথাও গড়ার কথা হয়, তা হলে নির্দ্বধায় বলবো, সেটি জাতিগত নির্মূলতারই ছদ্মনাম। বাস্তবে পশ্চিমা বিশ্বের এই স্বীকৃতির উদ্যোগ এক মরীচিকা, যা বিশ্ব বিবেককে ঘুম পাড়ানোর উপায়মাত্র। ইতিমধ্যে গাজা ধ্বংস হয়ে গেছে। পাড়া-মহল্লা মাটিতে মিশে গেছে। হাসপাতাল, স্কুল, ঘরবাড়ি ধূলায় রূপান্তরিত। পশ্চিমতীর, রামাল্লা, হেবরনে উচ্ছেদ অভিযান নিত্যনৈমিত্তিক। তাই, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া আগের ১৪৮ দেশের মতো এই তিন দেশের ঘোষণাটাকেও মূল্যহীন বলা যায়।
লেখক পরিচিতিঃ শিক্ষক, কলামিস্ট ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক।