নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে চলছে প্রকাশ্য দুর্নীতি। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি দেওয়ার পরও অতিরিক্ত ঘুষ না দিলে কোনো কাজ এগোয় না। বিআরটিএ অফিসে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দালালদের অবাধ বিচরণ। তারা প্রকাশ্যে সেবাগ্রহীতাদের কাছে এসে বলে “ঘুষ ছাড়া কাজ হবে না, আমাদের মাধ্যমে করলে ঝামেলা ছাড়াই সব দ্রুত হবে।”
সেবাগ্রহীতারা বলছেন, প্রতিটি ধাপে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়, গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য অতিরিক্ত বিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়।
দালাল সিন্ডিকেট অফিস প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দাপটের সঙ্গে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হন। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালের দ্বারস্থ হন, যেখানে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসন একাধিক অভিযান চালিয়ে কয়েকজন দালালকে গ্রেপ্তার করলেও চক্রটি পুরোপুরি ভাঙা যায়নি। স্থানীয় নাগরিক সমাজের দাবি, নিয়মিত অভিযান, অনলাইন সেবা কার্যকর বাস্তবায়ন এবং অফিসের ভেতরে দালালদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, অফিসের সব সেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল করা হচ্ছে এবং কোনো দুর্নীতির সুযোগ নেই। তবে সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
নাগরিক সমাজের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রাম বিআরটিএ অফিসে এ চক্র সক্রিয় থাকলেও প্রশাসনিক উদ্যোগ তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। দুদক মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও দালাল সিন্ডিকেট টিকে আছে আগের মতোই।
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সেবাগুলো ধীরে ধীরে ডিজিটাল করা হচ্ছে এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে এসেছে। তবে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা উল্টো কথা বলছে। সেবাগ্রহীতাদের ভাষ্যে, “অফিসে ডিজিটাল সিস্টেম থাকলেও দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, চট্টগ্রাম বিআরটিএ-তে চলমান দুর্নীতি রোধে নিয়মিত নজরদারি, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না।