
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। বিদেশি কোম্পানির কাছে কৌশলগত এই স্থাপনা হস্তান্তরের উদ্যোগকে অস্বচ্ছ, তড়িঘড়ি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী দাবি করে বিভিন্ন সংগঠন কয়েক মাস ধরে মানববন্ধন, মিছিল-সমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। এর মধ্যে ৩০ ও ২২ বছরের মেয়াদে দুটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে টার্মিনাল চুক্তি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এরই প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার বন্দর এলাকায় অবরোধ পালনের ডাক দিয়েছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
এর আগে, সোমবার সকালে স্কপের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বৈঠক হলেও সমঝোতা হয়নি। ফলে সংগঠনটি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। স্কপ জানায়, তারা বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবরোধ পালন করবে। নগরের মাইলের মাথা (সিমেন্স হোস্টেল), টোলপ্লাজা গেট ও বড় পুল এলাকায় এ অবরোধ অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রক্ষা পরিষদের কর্মসূচি স্থগিত
অন্যদিকে বিদেশি অপারেটরের কাছে সিসিটি ও এনসিটি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ঘোষিত অবরোধ দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে বন্দর রক্ষা পরিষদ। গত ২৪ নভেম্বর সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ আলোচনায় আশ্বস্ত করেছে যে শ্রমিকদের স্বার্থের বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এ আশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
গণঅধিকার কমিটির অবস্থান
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। গত ২২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘বন্দর নিয়ে সরকারের তৎপরতা কেন জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ শীর্ষক এক আলোচনায় তারা বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি তড়িঘড়ি, গোপনীয় ও অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কমিটির সদস্য ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, কয়েক মাস মেয়াদি অন্তর্র্বতী সরকারের পক্ষে এত দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চুক্তি করার যৌক্তিকতা নেই। তার বলেন, ‘ডেনমার্কের একটি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার বিনিময়ে তিন বছরে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আনার কথা বলা হলেও এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বন্দর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।’
দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন স্থাপনা ‘অস্বচ্ছ ও গোপনীয় চুক্তিতে’ বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ ‘গুরুতর ঝুঁকি’ তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন।
পেশাজীবির বিবৃতি
চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ, চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সংগঠনের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি ও সদস্য সচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরীর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিবছর আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করছে। তাই এখানে বিদেশি অপারেটরের প্রয়োজন নেই। তারা বলেন, ইজারা সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে এবং জনগণের স্বার্থে সরকারকে এই পরিকল্পনা থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে।









