নিউজগার্ডেন ডেস্ক: আজ চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিলসহ উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঞ্চার হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মিছিল ও কর্মসূচি পালনের ঘটনা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একই স্বৈরাচার পরবর্তি সময়ে তাদের এই উপস্থিতি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দাবি করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নীরবতা ও শিথিল অবস্থানের ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, সিভাসু শাখার নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাদের বক্তব্য, গত ১৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারকাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং আওয়ামী মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে পুনর্বাসনের অভিযোগও উঠে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের একাংশের সন্দেহ, ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালনের পেছনে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোনো যোগাযোগ বা নীরব সমর্থন থাকতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপাচার্য ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার প্রশাসনিক জায়গা থেকে হওয়া দূর্বলতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার।