নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ফরিদা খানম বলেছেন, গত বছরও রমজান মাসে শিশু আছিয়া হত্যার প্রতিবাদে আমরা প্রথমে রাজপথে নেমেছিলাম। নির্বাচিত সরকারের অধীনে নারী ও শিশুরা অধিক নিরাপদ হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা ও দলীয় ছত্রছায়ায় অপরাধ, জুলুম ও নারী নিপীড়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
৩ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুর ১২ টায় সারাদেশে নারী ধর্ষণ, হত্যা ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী মহিলা বিভাগের মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, রামপুরা, নরসিংদী, গাইবান্ধা, সীতাকুণ্ড ও ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে; কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছে। প্রশাসন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং বিচার নিশ্চিত হলে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতো না বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতি ফরিদা খানম, অবিলম্বে নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার এবং মানবতার পক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত, অপরাধে জড়িত গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা, মামলা গ্রহণে গড়িমসি করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিশু নিরাপত্তায় কার্যকর ও ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি বন্ধ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
নগর জামায়াতের মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা উম্মে কানিজ জাহানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মিসেস আয়েশা পারভীন, সাংগঠনিক সম্পাদিকা উম্মে ফাতেমা, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ফারজানা পারভীন এবং চাকসুর ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদিকা নাহিমা আকতার দীপা, শিশু বক্তা সামারা বিনতে নোমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য খুরশিদ জাহান, শাহেদা মতিন, জয়নাব বেগম নাহিদ, রোকেয়া বেগম চৌধুরীসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীবৃন্দ।