নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সাফ জাফর ভিলা ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আজ ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনের এস রহমান হলে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বহুতল ভবন ভাঙার অমানবিক ও বেআইনি পদক্ষেপের প্রতিবাদে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফ্ল্যাট প্লট ওনার্সের পক্ষে হুমায়ুন কবির চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৪৪টি অসহায় পরিবারের পক্ষে বসবাসরত ১২ তলা ভবন "ছাফ জাফর ভিলা", যা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অনুকূলে বরাদ্দপ্রাপ্ত জমিতে নির্মিত, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ভেঙে ফেলছে। এই ভবনে বর্তমানে ৪৪টি পরিবার বসবাস করছে, যারা এখন চরম আতঙ্ক, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে ফ্ল্যাট প্লট ওনার্সের পক্ষে হুমায়ুন কবির চৌধুরী আরো জানান, হাইকোর্টের আদেশ অমানা করার অভিযোগ আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই এই ভাঙচুর কার্যক্রম মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের রায় নিষেধাজ্ঞা ও আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন। মহামান্য হাইকোর্ট রিট নং: ১৫১/২০২৬, সুপ্রিম কোর্টের সিভিল মিসিলিনিয়াস নং: ২২৪/২০২৬। মহামান্য হাইকোর্ট গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে রিটের আলোকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের এপিলেট ডিভিশন সিভিল ডিভিশন মামলার আদেশ প্রদান করেন। এই আদেশে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে সাফ জাফর ভিলার পিছনে প্রবাহমান মির্জা খালের বি এস সিটের ১৭০ দাগ অনুযায়ী খালের পশ্চিম পাশে খালের পরিমাণ ৫১ ফুট এবং পূর্ব পাশে ৪৯ ফিট নিয়ে খাল নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। এই আদেশ অমান্য করে পশ্চিম দিকে ভারা ৫৮ ফুট নিতে গিয়ে ভবনের ৮ ফুট করে রা ১২ তলা ভেঙে ফলে এবং একইভাবে পূর্বদিকে ৫৫ ফুট নিতে গিয়ে বহুতল ভবনের ৬ ফুট ভেঙে ফেলে। এই ভাঙার কার্যক্রম সিডিএ সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে একতরফাভাবে ভবনটি ভেঙে ফেলেছে। এটি স্পষ্টতই আদালত অবমাননার শামিল। হাইকোর্টের সিভিল রিভিশন মামলা নং ৯৯৭/২০২৬ এর আদেশ অনুযায়ী সাফ জাফর ভিলা ভবনের পিছনের উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ ফুট এবং পূর্ব পশ্চিমে ৮১ ফুট সর্বমোট ৪৮৬ বর্গফুট জায়গার উপরে স্থিত অবস্থায় বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তারা সেটাও অমান্য করে সকল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং এসব আইনগত নির্দেশনা সমূহ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে এখানে। এটি প্রমাণ করে.. এখানে আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ফ্ল্যাট প্লট ওনার্সের পক্ষে হুমায়ুন কবির চৌধুরী জানান, সিডিএ "চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প" এর দোহাই দিয়ে এই ভাঙচুর চালিয়েছে। ভবনের পেছনের অংশে বি এস শিট অনুযায়ী খালের প্রকৃত প্রন্থ পশ্চিমে ৫১ ফিট, পূর্বে ৪৮ ফিট। সিডিএ সেটিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ৫৮ ফুট দাবি কবে, যার কারণে পশ্চিম দিকে ১২ তলা ভবনের ৮ ফিট করে ভেঙ্গে ফেলা হয়। ঠিক একইভাবে পূর্বদিকে ৬ ফিট করে ভেঙে ফেলা হয়। ভবন খালের মধ্যে পড়ে না, বরং আইন মেনে নির্মিত হয়েছে এখানে সুস্পষ্টভাবে তথ্য বিকৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে এবং আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে ফ্ল্যাট প্লট ওনার্সের পক্ষে হুমায়ুন কবির চৌধুরী আরো জানান, সিডিএ'র কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সিডিএ'র দায়িত্বশীল কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভাঙচুর করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এই ভবনটি শুধু একটি স্থাপনা নয়-এটি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অধিকার ও সম্মানের। এই ভাঙচুরের মাধ্যমে শহীদ পরিবারকে অপমান করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মান করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৪টি পরিবার গৃহহীন হওয়ার পথে নারী, শিশু, রোগী ও বৃদ্ধরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেমামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার ও সুশাসন এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার চেষ্টায় রত আছে বলে ভূক্তভোগীরা জানান।
সরকারের কাছে ভূক্তভোগীরা প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে দাবি জানাই- অবিলম্বে ভাঙচুর কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে, হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে, প্রকল্পের নামে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে, ভূক্তভোগীরা বিচার ও ন্যায় চাই, মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। আইনের শাসন যদি থাকে তাহলে এই অন্যায়ের বিচার হবেই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবির চৌধুরী, মোয়াজ্জেম হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামালসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।