নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কোরাল রীফ প্রপার্টিজ-এর বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ, প্রতারণা, ফ্ল্যাট দ্বৈত বিক্রি ও ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে জমির মালিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে, যা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার আমানত খান সড়কে প্রায় ১৬ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জমিতে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ২০১২ সালে প্রায় ৫০ জন ওয়ারিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি নির্ধারিতভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।
জমির মালিকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে এবং মালিকদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়নি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মালিকদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। চুক্তি অনুযায়ী বিলম্বের জন্য মাসিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। এতে একজন বাদীর প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের জুনে জমির অন্যতম মালিকের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জমির মালিকদের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির করা পাল্টা মামলায় জমির মালিকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
মামলার নথি অনুযায়ী, চুক্তিতে আবাসিক ভবনের কথা থাকলেও সেখানে অতিরিক্ত দোকান নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটের আকারেও অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। এমনকি ক্ষতিপূরণের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়েও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের প্রতারণা করে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমও অনেকটা অদৃশ্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাদের।
একজন ভুক্তভোগী জানান, “একই ফ্ল্যাট একাধিক জনের কাছে বিক্রি করায় প্রতিটি ফ্ল্যাটে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে থাকতে হচ্ছে।”
এদিকে, পুরো ঘটনায় এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভবনটিতে বসবাসকারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।