নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার ১ম সাধারণ অধিবেশনে গৃহিত এক প্রস্তাবে বলা হয়। একটি নিরাপদ ও উন্নত সমাজ গঠনের জন্য সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মতো অপরাধসমূহ মুহ নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি। এসব অপরাধ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। এই প্রবণতা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
অপর এক প্রস্তাবে বলা হয় চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ও খুলশী সেগুনবাগান ইসলামী পাঠাগারে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের ওপর ও ফয়েজ লেক এলাকায় এক জামায়াত কর্মীর ওপর ছাত্রদল ও যুবদলের সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় ঘটনায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
অধিবেশনে বলা হয়, এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে- সকল সহিংসতা বন্ধ করা, এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান, যেন তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশুদের ওপর ধারাবাহিক ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকার নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে বলেও প্রস্তাবে মন্তব্য করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের মজলিসে শূরার পক্ষ থেকে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানানো হয়।