নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দর কেবল বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং সার্বভৌমত্বের সাথে সরাসরি জড়িত। এর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়টি কেবল মুনাফার হিসাব দিয়ে বিবেচনা করা যায় না, কারণ এই কৌশলগত অবস্থানটি দেশের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মূল ভিত্তি।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক।
শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিডার চেয়ারম্যানসহ নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি দল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নতুন প্রস্তাবনায় শুধু এনসিটি নয়, সিসিটি, জিসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ বন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
শ্রমিক নেতারা আরো দাবি করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কোন টার্মিনাল বিদেশি কর্পোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হলে- রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, দেশীয় কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুন্ন হবে, বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি আমরা মেনে নেব না। দেশের জনগণ, শ্রমিক-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের উদ্বেগ, তথ্য ও প্রস্তাব সরাসরি উপস্থাপন করতে চাই। চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাতের আবেদন জানাচ্ছি, যাতে জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বক্তব্য সরকার সরাসরি শুনতে পারেন।
দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে সরে আসবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তপন দত্ত, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এস কে খোদা তোতন, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, খোরশেদুল ইসলাম, রবিউল হক শিমুল, হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর শ্রমিকনেতা আব্দুর রউফ লিটনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।