নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি খাতের কেন্দ্রবিন্দু। বিপিসির আওতাধীন জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অধিকাংশ কার্যক্রম চট্টগ্রামকেন্দ্রিক। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার, প্রধান তেল ডিপো এবং আমদানি কার্যক্রম যেখানে পরিচালিত হয়, সেই নগরী থেকে বিপিসির প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তারা বলেন, বিপিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম থেকেই দেশের জ্বালানি খাত পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক ও কারিগরি কাঠামোকে অকারণে পরিবর্তন করা হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা,গতিহীনতা ও অসন্তোষ তৈরি হবে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজধানীকেন্দ্রিক করার প্রবণতা দেশের সুষম উন্নয়নের পরিপন্থী। চট্টগ্রাম দেশের বানিজ্যিক রাজধানী ও অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং সুযোগ-সুবিধা ঢাকামুখী করার কারণে আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বিকেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে চট্টগ্রামের গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, দুর্বল করা নয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা উচিত ছিল।
নেতৃদ্বয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং চট্টগ্রামের ন্যায্য মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রামের শ্রমিক, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হবে এবং বৃহত্তর আন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।
পরিশেষে তারা বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়নের নীতি অনুসরণ করাই সময়ের দাবি। চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।