নিউজগার্ডেন ডেস্ক: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গত ২৫-৩১ মে পর্যন্ত পবিত্র ঈদ-উল আযহার সরকারী ছুটিতে পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নরমাল ডেলিভারী, এএনসি, পিএনসি সেবাসহ গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদেরকে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা চালু রাখা হয়েছিল। এ সময়ে কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত চিকিৎসক, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী ও কর্মচারীগণ কর্তৃক মহানগর, থানা ও উপজেলা পর্যায়ের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে ১২৬টি নরমাল ডেলিভারীসহ মোট ৩ হাজার ১৪০ জনকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম সাহান ওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে ১২৬টি নরমাল ডেলিভারীর পর ৪৫ জনকে প্রসব পরবর্তী সেবা প্রদান করা হয়। এএনসি সেবা পেয়েছে ৬২৯ জন ও পিএনসি সেবা পেয়েছে ৩৭০ জন। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে ০-৫ বছর বয়সী ৩৮১ জন শিশুকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৩১৫জন কিশোর-কিশোরীকে বয়োঃসন্ধিকালীন সেবা ও পুষ্টি সেবা প্রদান করা হয়েছে। পুরুষ ও সাধারণ মহিলা রোগীসহ মোট ৯১৫ জনকে সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৪০৪ জন দম্পতিকে আন্তরিকভাবে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা দেয়া হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহান ওয়াজ জানান, কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থসেবা নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ রোধ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদেরকে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ফলে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের সরকারী বন্ধে পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা চালু ছিল। শিশুর বাসযোগ্য বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৈশারকালীন স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সুস্থ মা ও সন্তান অত্যন্ত জরুরী। কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার এ অগ্রযাত্রায় সবাইকে সামিল হওয়ার আহবান জানান তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (সিসি) ডা. শামীমা হাসনাত জানান, প্রতিটি সেবা কেন্দ্রে হামের প্রাদুর্ভাব ও প্রতিকার বিষয়ে মা ও জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।