নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যােগের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রধান কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার সংবাদে চট্টগ্রামের জনমনে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া খুবই যৌক্তিক। ইতোমধ্যে শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। চট্টগ্রামের জয়পাহাড় এলাকায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিপিসির নতুন ভবনের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে যা বর্তমানে বিএসসি ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস যথারীতি বহাল রাখুন; কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতিতে প্রশাসনিক কার্যকারিতার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই রাখতে হবে।
নগর আমীর বলেন, দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতো চট্টগ্রামেই। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম থেকেই তেল সেক্টরের আমদানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র বিন্দু চট্টগ্রাম থেকে বিপিসির প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।বিপিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্বালানি খাতের সামগ্রিক কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো পরিবর্তন করলে সমন্বয়হীনতা ও স্থবিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দেশের সুষম উন্নয়নের স্বার্থে বানিজ্যিক রাজধানীর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণের বিপরীতে বিপিসি প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব বাতিল করুন।
তিনি আরও বলেন, যেকোন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে শ্রমিক-কর্মচারী, কর্মকর্তাসহ স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ এবং বিরোধীদল সমেত গঠিত সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করে জাতিকে অবহিত করার জন্যও আহবান জানান।