নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আশুরার রোযা শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি হক ও বাতিলের চিরন্তন সংগ্রামের শিক্ষা বহন করে। হযরত মূসা (আ.) ও ফেরাউনের মধ্যকার সংঘাত ছিল সত্য ও মিথ্যার লড়াই। সেই ইতিহাস জানা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ ইসলামী একাডেমি (বিআইএ) মসজিদে জুমার পূর্ব আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোযা পালন করেছেন, আমরাও তা পালন করব। তবে কেন এই রোযা পালন করা হচ্ছে, তার তাৎপর্য ও পটভূমি সম্পর্কে জানতে হবে। অনেকেই মনে করেন ইসলামের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ আশুরার শিক্ষা আমাদের জানিয়ে দেয় যে, ইসলাম ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত সর্বত্র প্রাসঙ্গিক।
তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ তায়ালা ক্ষমতা প্রাপ্তদের নামায প্রতিষ্ঠা, যাকাত চালু, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের নির্দেশ দিয়েছেন। সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে যাকাত ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। ক্ষমতা লাভ করলে নামায ও যাকাত প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজকে অশান্তি ও অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে ঝুঁকে প্রবেশ করা এবং মুতা বিয়ের বিষয় নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে উভয়টিই হারাম। মানুষ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করতে পারে না। আল্লাহর অশেষ রহমতে সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশের বিষয়টি বাতিল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যে পরিমাণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা লাভ করে, কিয়ামতের দিন সে পরিমাণ জবাবদিহির সম্মুখীন হবে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শুধু বক্তৃতা দেওয়া কিংবা শোনার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ইসলামের বিধান, বিশেষ করে নামায ও যাকাত প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে কুরআনকে গভীরভাবে অনুধাবন ও জীবনের সর্বস্তরে বাস্তবায়নের জন্য তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশ, জাতি এবং মহান জাতীয় সংসদের কল্যাণ কামনা করে তিনি দোয়া চান, যাতে জনপ্রতিনিধিরা যোগ্যতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইসহাক, নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহি, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, কোতোয়ালী থানা আমীর আমির হোসেন, বিআইএ মসজিদের খতিব মাওলানা সাফওয়ান বিন হারুন আযহারী, ইঞ্জি. রুহুল আমিন ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ এবং রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি।