ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করেঃ যুগ্মসচিব
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: দীর্ঘ বিরতির পর সারাদেশের ন্যায় আজ ২৮ জুন রোববার চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সকালে হাটহাজারী উপজেলার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণি ক্লাবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৬-১১ মাস ও ১২-৫৯ মাস বয়সী দু’জন শিশুকে নীল ও লাল রঙের দু’টি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে দিয়ে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান। হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুুষ্ঠিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক কামাল হোসেন, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, পরিসংখ্যানবিদ তানজিলা আক্তার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হেলথ এডুকেটর প্রবীর মিত্র, এন্টোমলজিস্ট মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ও মোহাম্মদ জাহেদ প্রমূখ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে অনুষ্টিত ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ও ১২-৫৯ মাস বয়সী মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ জন শিশুকে একটি করে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। তন্মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৭৯ জন শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জন শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। জেলার স্থায়ী, ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ী কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আইইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আইইউ) খাওয়ানো হয়। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জেলার ১৫ উপজেলার ২’শ ইউনিয়নের ৬’শ ওয়ার্ড, ১৭টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমান কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮’শ অস্থায়ী কেন্দ্রে এ ক্যাম্পেইন চলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যু হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ঘিরে যে কোন ধরণের গুজব রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, শিশুর জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেয়া যাবে না। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। কোন শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে যাতে বাদ না যায় সে দিকে সবাইকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে।