নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী এবং চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সভাপতিত্বে এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারি আ ন ম জোবায়েরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বশীল অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাছের, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুব বিভাগের দায়িত্বশীল ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন সরকার, আমান উল্লাহ আমান ও তৌহিদ আজাদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, দেশের টেকসই পরিবর্তন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে যুবসমাজকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। এই বিশাল যুবশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে বাংলাদেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যুব জনসংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ায় তারা বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি এনে কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণ করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত হিসেবে বিপুল যুবশক্তির অধিকারী। এ শক্তিকে মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্র, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে আদর্শবান, মানবিক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উদাসীনতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে যুবসমাজ নানা সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে দেশকে উত্তরণের জন্য যুবসমাজকে এখন থেকেই সংগঠিত ও প্রস্তুত হতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেই সফলতা অর্জন করেছে। তাই যুব বিভাগকে রক্তদান কর্মসূচি, মাদকবিরোধী আন্দোলন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলায় বর্তমান সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ ইসলামী আন্দোলনের প্রতি যে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করেছে, তা আগামী দিনের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অতীতে যারা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তারাও আজ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জামায়াতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ব্যাপক সম্পৃক্ততা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাই তাদের চিন্তা, রুচি, প্রত্যাশা ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুব বিভাগের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজই একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি। আদর্শিক, নৈতিক ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে যুবকদের রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় যুব বিভাগের কার্যক্রমকে গতিশীল করে সামাজিক সেবা, মানবিক উদ্যোগ এবং গণকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুবকদের সম্পৃক্ত করতে পারলে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রতিটি সাংগঠনিক স্তরে যুব বিভাগের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে হবে। আদর্শিক প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা, সামাজিক সেবা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবসমাজকে ইতিবাচক ধারায় সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। তিনি পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে যুব বিভাগের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকল দায়িত্বশীলের প্রতি আহ্বান জানান।