নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্রগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড শান্তি নগর এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা দখল বাণিজ্য, মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।নগরী যেন ধীরে ধীরে কিশোর সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যাচ্ছে। নগরীর অলিগলি সহ কোথাও যেন নিরাপত্তা নেই।
হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে তারা। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। পাড়ায়-পাড়ায় তাদের দাপট। এই অপরাধীদের অনেকে মাদকাসক্ত। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ও আছে তাদের পদচারণা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই কিশোর গ্যাংগুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে বেপরোয়া।
সূত্র জানায়, নিকৃষ্ট কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে বাকলিয়া থানার বেশ কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা। অর্থের বিনিময়ে সঙ্গ দিয়ে থাকে এইসব অপরাধীদের অপরাধ কর্মকান্ডে। তেমনি গত ৯/৬/২০২৬ ইং তারিখে এক ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছেন বাকলিয়া শান্তিনগর নিবাসী মরহুম ইয়াকুব আলীর প্রকৃত ওয়ারিশ আবদুর শুক্কুর গং এর পরিবারের সদস্যরা।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এয়াকুব আলী ছিলেন অগাধ সম্পত্তির মালিক। এই সম্পত্তির মূল ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তির মৌখিক বন্টননামা, আদালতের রায় ডিগ্রী, ওয়ারিশদের নিকট হতে খরিদা দলিল সহ প্রায় ৫ কানি সম্পত্তির মালিক হন এয়াকুব আলীর নাতনী ছায়রা খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল শুক্কুরের পিতা এয়ার মোহাম্মদ।
সম্পত্তির ভোগ দখলে ওয়ারিশগণ বর্তমানে উক্ত সম্পত্তির দখল ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। ইতিমধ্যে মোজাহের ও তার ভাই ছৈয়দ গং বিভিন্ন জালিয়াত দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সম্পত্তির উপরে বিএস সৃজন করে বলে অভিযোগ আব্দুল শুক্কুর গং এর। বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তাদের সম্পত্তির আর এস খতিয়ান ১৯১৯ সহ একাধিক আর এস দাগের বিপরীতে বিএস খতিয়ানের বিরুদ্ধে সংশোধনী মামলা নং ৩৩/২০১৩ দায়ের করেন। বর্তমানে এই মামলা স্থানান্তরিত হয়ে এল. এস, টি মামলা নং ২৬৯৯/২০২৪ চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে মূল তথ্য গোপনে মামলা চলাকালীন অবস্থায় একাধিকবার পুলিশি হয়রানী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আক্রমণ চালায় বলে কিশোর গ্যাং লিডার বাচ্চুগং এর নাম তথ্যানুন্ধানে উঠে আসে। এর মধ্যে আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মিথ্যা মামলা করে মোজাহের পুত্র পারভেজ গং। প্রকৃত তথ্য উপস্থাপণে ব্যর্থ হলে সদর এসিল্যান্ড অফিস হতে তাদের দায়ের করা মামলার রিপোর্টে ভূমির প্রকৃত দখলদার ও ওয়ারিশ হিসেবে আব্দুল শুক্কুরগং এর পরিবারকেই উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ সময়ে ফ্যাসিস্ট এর দোষর এই বাচ্চু বর্তমানে শান্তি নগর এক্সেস রোডে গড়ে তুলেন তার কিশোর গ্যাংবাহিনী। অভিযোগ রয়েছে তার এই কর্মকান্ডকে সমর্থন করে যায় বাকুলিয়া থানায় কর্মরত বেশ কিছু অসাধু কর্তাবাবুরা।
গত ০৯/০৬/২০২৬ ইং সকাল ১১ টায় আদালতের আদেশ অমান্য করে শ খানেক কিশোর গ্যাং সদস্য নিয়ে বাচ্চুর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় সন্ত্রাসী হামলা। যার একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় আদালতের নির্দেশনার সাইনবোর্ড ভাঙ্গতে বাচ্চুকে এবং মূল ওয়ারিশদের দিকে হামলা করতে। বাচ্চু তার কিশোর গ্যাং নিয়ে হামলা করলে চট্টগ্রাম বাকলিয়া থানায় ভিকটিম ওয়ারিশ আব্দুল কাদের তাদের উপরে হামলার ঘটনা বর্ণনা করে মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে একটি সাধারণ ডায়রী নং ৫৯৯ গ্রহহণ করেন।
অন্যদিকে আদালতে চলমান ভূমির প্রকৃত বিএস সংশোধনী মামলার তথ্য গোপন করে চাঁদাবাজি নাটক মঞ্চস্থ করে বাকলিয়া থানায় ঐ তারিখে দায়িত্বরত পুলিশের অসাধু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সোলায়মান এর সহায়তায়।
প্রকৃত ওয়ারিশান সনদ দলিল পত্র আদালতে চলমান মামলার বিষয় এসিল্যান্ড প্রদত্ত রিপোর্ট কোন কিছুই যাচাই বাছাই না করে একতরফা পুলিশ বাকলিয়া কিশোর গ্যাং লিডার বাচ্চুকে সমর্থন দিয়ে শুক্কুর গং এর পরিবারের সদস্যদের গ্রেফফতার ও হয়রানী করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সম্পত্তির মূল মালিক আব্দুল শুক্কুর গং ও স্থানীয়রা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় থানার এ হেন অসৎ কর্মকান্ডে ঘটনার প্রকৃত রহস্য অবগত আছেন এমন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মনে করেন পুলিশ সম্পত্তি দখলের কন্ট্রাক্ট নিয়েছে। নয়তো আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন কাগজপত্র পর্যালোচনা ছাড়াই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না করেই এভাবে একটি নিরীহ পরিবারকে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানীর উদ্দ্যেশ্য ও তাদের দখলীয় মৌরশী সম্পত্তি মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের লেনদেনের মাধ্যমে ভূমি দস্যুর হাতে তুলে দেয়া ছাড়া আর কি হতে পারে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, ওসি মোঃ সোলায়মান নিজেই ক্রাইমের সাথে সম্পৃক্ত। মাসিক মাসোহারা নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে যেত নানা অপকর্মে। স্থানীয় এক বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, মালাটির আর্জি পর্যবেক্ষণে দেখা যাবে ভূমি দস্যু কিশোর গ্যাং নেতা আর্জির কোথাও উল্লেখ করেন নাই সমস্ত বিএস খতিয়ানের বিরুদ্ধে মাননীয় আদালতে মামলা চলমান আছে।
আদালতে চলমান মামলার বাদীকে হয়রানী করাও একটি বড় ধরনের অপরাধ। বাচ্চুর দায়ের করা চাদাবাজির মিথ্যা মামলা গ্রগণ করে সিভিল মামলার বাদির পরিবারের উপর অন্যায় করেছেন ওসি মোঃ সোলায়মান। তিনি বাদির দায়ের করা মামলা পর্যবেক্ষণে গাফিলতি করেছেন যা আইনত অপরাধ।
গ্রেফতারকৃত ওয়ারিশ ও হয়রানীর শিকার আব্দুল কাদেরকে তিনি অন্যায় ভাবে ভয় ভীতির মাধ্যমে মামলা দিয়ে সম্পত্তি থেকে সরে যাওয়ার জন্য এই কাজটি করেছেন।
স্থানীয়রা এখানে জানান জলাবদ্ধতা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের কারণে বাউন্ডারি খুলেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এখানেই চাদাবাজির নাটক মঞ্চস্থ করেছেন কিশোর গ্যাং লিডার মোঃ বাচ্চু, সহায়তাকারী ওসি মোঃ জয়নাল এবং তদন্ত কর্মকর্তা নাসিম উল হক ইমরান। সম্পত্তির বাদি মোঃ শুক্কুর গং তাদের উপরে এই ধরনের আইনকে অসম্মান করা ওসি মোঃ সোলাইমানের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন। স্থানীয়রা মনে করেন গুটি কয়েক পুলিশ অফিসারের কারণে সম্পূর্ণ একটি বাহিনী কলংকিত হতে পারে না।
সিএমপির সিনিয়র এক পুলিশ কর্মকর্ত জানান, কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।