নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। এটি মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা-মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) কাজ করে যাচ্ছে। ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিভাসু’র সাথে ইতোমধ্যে এমএসএফ’র সাথে চুক্তি সাক্ষর হয়েছে।
চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে আমরা প্রস্তুত। এ জন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি ৪টি বাসা-বাড়ির মধ্যে একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। গত জুন মাসে বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৫ জন, চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তা ৪৮৫ জনে উন্নীত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ বিষয়টি বিবেচনায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের সুযোগ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সপ্তাহের প্রতি শনিবার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু নজরদারী ব্যবস্থা জোরদারে আজ ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সকালে নগরীর লয়েল রোডের সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমএসএফ’র সহযোগিতায় সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।
ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এমএসএফ’র মতো অন্যান্য অসরকারী সংস্থাগুলো এগিয়ে আসলে শুধু ডেঙ্গু নয়, যে কোন রোগ প্রতিরোধে আমরা সফল হবো। ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ফুলের টব ও পানির জার থেকে শুরু করে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে, কারণ জমে থাকা পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, উপাসনালয়সহ গুরুত্বপূর্ণস্থানে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। গণমাধ্যমগুলোও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম জেলা সিভিল ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলায় গত জুন মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১২২ জন, চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত তা বেড়ে ১৬৪ জনে উন্নীত হয়েছে। তন্মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন, উপজেলা পর্যায়ে ৭৪ জন ও অন্যান্য জেলা থেকে আগত ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি অসরকারী সংস্থা-এমএসএফ ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এমএসএফ’র মেডিকেল টিম লিডার ডা. ফ্রান্সিসকো রাউল ডি. সালভাদর ও মেডিকেল যোগাযোগ কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা ফেরদৌসীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু নজরদারী ব্যবস্থা জোরদার বিষয়ক সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, ফোজদারহাটস্থ বিআইটিআইডি’র পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোঃ একরাম হোসেন, বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোঃ আবদুল মোত্তালিব, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নুর মোহাম্মদ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা, এ.এস.এম লৃৎফুল কবির, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মোঃ নুরুল হায়দার, এমএসএফ’র ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খাঁন, সিটি করপোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. তপন কুমার দাশ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক রিংকু কুমার শর্মা, ইউনিসেফ’র চট্টগ্রাম ফিল্ড অফিসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।
মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিদ্যমান নজরদারী ব্যবস্থা জোরদারণ, ডাটা, চ্যালেঞ্জসমূহ এবং সম্ভাব্য সমাধান বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমএসএফ’র ডেপুটি কান্ট্রি চীফ অব হেলথ ডা. রেজওয়ানুর রহমান ও এমএসএফ’র চট্টগ্রাম আর্বান প্রকল্পের ইপিডেমিওলজিষ্ট প্রশান্ত নাথ ভৌমিক।
সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে ডেঙ্গু মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। জীবন বাঁচানোর জন্য যেকোন উপায়ে এডিস মশা ধ্বংস করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং মশারি ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই।