
নিউজগর্ডেন ডেস্ক: জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি বিষয়ে উলামা-মাশায়েখের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা আজ ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টায় নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা মমতাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের পূর্বমুহূর্তে দেশ গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। জনগণের ওপর আরও কঠোর নির্যাতন নেমে আসবে কি না – এমন শঙ্কা বিরাজ করছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট আল্লাহর বিশেষ সাহায্যের মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তিনি বলেন, আল্লাহর সাহায্য তখনই আসে, যখন তাঁর বান্দারা সত্য ও ন্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর মধ্যে জুলাই চার্টার প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এই চার্টার প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে গিয়ে দেশকে আবারও অতীতের ফ্যাসিবাদী ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মাওলানা শাহজাহান বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেন, সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং জনগণের গণরায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা বিদেশি প্রভাব মেনে নেবে না। তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ জুলাই বিপ্লবের চেতনার পক্ষে রয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত গণমানুষের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। তিনি আলেম-ওলামাদের হক ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করা উচিত নয়; এতে যার যতটুকু অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদের সূচনা ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর গাজীপুর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মুহাম্মদ রুহুল আমীন হত্যার মধ্য দিয়ে এবং পরদিন ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার মাধ্যমে তা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বহু শীর্ষ নেতা জীবন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাসূল (সা.)-এর হাদিসের আলোকে সমাজের কল্যাণমূলক প্রতিটি কাজই সদকাহ। তাই সমাজের উন্নয়ন, মানবসেবা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কাজে আলেম-ওলামাদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মমতাজুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। তিনি বলেন, উলামা-মাশায়েখদের উচিত সমাজে ঐক্য, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে জনগণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে আলেম সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় ওলামা বিভাগের সহকারী দায়িত্বশীল মাওলানা মিয়া মোহাম্মদ হোসাইন শরীফের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা রহুল আমীন, মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ ফিরদাউস, মাওলানা তৈয়ব আলী মজিদী, মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহীম ছিদ্দীকি, মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রমুখ।









