নিউজগর্ডেন ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচালন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোনো উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে ১৪ জন পরিচালককে নতুন করে পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ব্যাংকটির পরিচালনা কাঠামোয় উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশগ্রহণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারা এবং ৪৭(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর নতুন ১৪ জন পরিচালক যুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। নতুন উদ্যোক্তা পরিচালকদের পাশাপাশি পূর্বের স্বতন্ত্র পরিচালকরাও পর্ষদে বহাল থাকছেন, ফলে অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালনা কাঠামো গড়ে উঠেছে।
নতুন পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন খলিলুর রহমান, বদিউর রহমান, এনায়েত উল্লাহ, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তাসলিম। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখছেন খাজা শাহরিয়ার, মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এম. আবু ইউসুফ এবং মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নবগঠিত ১৯ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ শিগগিরই পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করবে, যিনি আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রদান করবেন।
ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান পরিচালক পুনরায় পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যাংকটির নেতৃত্বে অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যাংকিং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকের সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শরীয়াহ্-ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আমানতকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণেও নতুন পরিচালনা পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি দেশের ব্যাংকিং খাতে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গ্রাহককেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।