নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১৬ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেছেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের সকল শহীদই জাতির গর্ব ও জাতীয় সম্পদ। তারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সম্পদ নন; বরং সরকারি দল-বিরোধী দল নির্বিশেষে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত গৌরবের অংশ। তাই শহীদদের স্মরণ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বা বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে শুধুমাত্র শহীদ ওয়াসিম আকরামকে সামনে এনে অন্য শহীদদের অবদানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬' উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিম আকরামের শাহাদাতস্থলে স্মৃতিফলকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও একই দিনে শাহাদাত বরণকারী শহীদ শান্ত ও শহীদ ফারুককে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি জেলা প্রশাসনের একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিফলন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক।
তিনি বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ নিঃসন্দেহে অবিস্মরণীয় এবং জাতি তা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তবে জেলা প্রশাসনের মনে রাখা উচিত, ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে শুধুমাত্র একজন নয়, আরও দুইজন বীর সন্তান - শহীদ শান্ত ও শহীদ ফারুক, একই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের শাহাদাতকে অস্বীকার বা আড়াল করা ইতিহাসের সঙ্গে অবিচার এবং শহীদদের রক্তের প্রতি চরম অসম্মান।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের আত্মত্যাগের ইতিহাস আরও বিস্তৃত। ১৮ ও ১৯ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কিংবা পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন তানভীর আহমদ ছিদ্দিকী (আশেকান আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ), হৃদয় চন্দ্র তারুয়া (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), ফরহাদ হোসেন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), শহীদুল ইসলাম (পাদুকা শ্রমিক), জামাল উদ্দিন (রিকশা শ্রমিক) এবং মাহিন হোসেন সাইমুন (দোকান কর্মচারী)। এছাড়া ৫ আগস্ট (জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়) চট্টগ্রামের মনসুরাবাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন মোহাম্মদ আলম। একই আন্দোলনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন মোহাম্মদ ইউসুফ, ইশমামুল হক, ওমর বিন নুরুল আবছার এবং ৪ আগস্ট ফেনীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ আগস্ট চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে শাহাদাত বরণকারী শহীদ মাহবুবুল হাসান। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের শাহাদাতের তথ্য জনশ্রুতিতে রয়েছে, যেগুলোও যথাযথভাবে যাচাই করে রাষ্ট্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতিকে দলীয়করণ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বিপজ্জনক প্রবণতা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সকল শহীদের আত্মত্যাগকে সমান মর্যাদায় স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইতিহাসকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শহীদদের মূল্যায়ন করলে তা জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বিকৃত ইতিহাস পৌঁছে যাবে।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চট্টগ্রামের জুলাই আন্দোলনের সকল শহীদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত এবং শহীদ শান্ত, শহীদ ফারুকসহ সকল শহীদের স্মৃতির যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে শহীদদের বিষয়ে দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে মর্যাদা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।