নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)—এর মাননীয় ভাইস—চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেছেন, পেশাগত জীবনে যে ক্ষেত্রেই কাজ করা হোক না কেন, পূর্ণ মনোযোগ ও ধৈর্য নিয়ে কাজ করতে হবে। জীবনে কঠোর পরিশ্রম এবং বিনয়ের মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়। সবসময় হাসিখুশি ও প্রফুল্ল মন নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ভালো যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন যত বড় হবে, তাদের সাফল্যও তত বড় হবে। মেধার কোনো নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। ভবিষ্যতে চুয়েটের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এক একটি বড় প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য হিসেবে দেখতে চাই। বাংলাদেশের মূল্যবোধকে ধারণ করে চুয়েটকে দ্রুততম সময়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে নিতে হবে। সিএসই গ্রাজুয়েটদের কর্মপরিধি অনেক ব্যাপক। দেশে ও বিদেশের সকল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
আজ ১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) ২০২৬ খ্রিঃ দুপুরে চুয়েটের সিএসই বিভাগের অপারেটিং সিস্টেম ল্যাবে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ এর ২০ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ ইব্রাহিম খান, অধ্যাপক ড. কৌশিক দেব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন, অধ্যাপক ড. মোঃ মোকাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. আবু হাসনাত মোহাম্মদ আশফাক হাবীব, সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জর—উল—হাসানসহ সিএসই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এতে সভাপতিত্ব করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর। অনুষ্ঠানে বিদায়ী ব্যাচের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সিএসই বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রতœজিত ধর এবং আদিল রায়হান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক আয়েশা বানু এবং সাইমুম হোসাইন সোহান।সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম যদি লক্ষ্য থাকে অটুট
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর উদ্যোগে ক্যারিয়ার টক : যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিষয়ক মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম গতকাল সোমবার ইউনিভার্সিটির হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব ও গীতি—কবি আসিফ ইকবাল। রেজিস্ট্রার এ এফ এম মোদাচ্ছের আলীর সঞ্চালনায় আয়োজিত প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মূল আলোচনায় আসিফ ইকবাল বলেন, সফলতা সহসা আসেনা, ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে আর তার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনা। কাজের বাস্তবায়নই আসল । শুধু বড় পরিকল্পনা বা আইডিয়া থাকলেই সফল হওয়া যায় না; সেটির সঠিক বাস্তবায়নই মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। জীবনের স্বপ্ন সুনির্দিষ্ট করে তা পূরণে কঠোর শ্রম ও সাধনা করতে হবে । তাঁর মতে, ভুল করার সুযোগ থাকলেই নতুন নতুন উদ্ভাবন সম্ভব হয়, তবে একই ভুল বারবার করা যাবে না। চারপাশে নেতিবাচকতা থাকলেও নিজের সততা ও সঠিক পথে অটল থেকে সেটির মোকাবিলা করতে হবে। কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল না ছেড়ে লক্ষ্য অর্জনে লেগে থাকার মানসিকতাই জীবনের মূল চালিকাশক্তি। এসময় তিনি জীবনের লক্ষ্য ও অনুপ্রেরণা তাঁর লেখা বিখ্যাত গান "যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে, হবেই হবে দেখা, দেখা হবে বিজয়ে"—এর মূল দর্শনই সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রেণি কক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন হতে হবে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু চাকরির পেছনে ছুটলে হবে না। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সবাই এসি রুমে বসে ডেস্ক জব করবেন এমন চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিতে হবে। স্বকীয়তা বজায় রাখতে হবে, সমাজ বা পরিবারের চাপে অন্য কারও মতো হওয়ার অন্ধ প্রতিযোগিতায় নামা উচিত নয়। আমাদেরকে মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে, নিজের ভেতরের অনন্য বা ইউনিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিভাকে চিনে তা ধরে রাখার ওপর জোর দিতে। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতা করার চেয়ে নতুন কিছু 'সৃষ্টি' বা ক্রিয়েট করা শ্রেয়, যা মানুষকে পথ দেখাবে। ভালো কাজের মাধ্যমে সফল হওয়া এবং সফলতার মাধ্যমে অন্যের ভালো করা এটাই হওয়া উচিৎ।
প্রধান অতিথি উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, জীবনের লক্ষ্য সঠিক না হলে ডিগ্রি অর্জন করেও হতাশায় ভুগতে হয়। তাই পড়াশুনার সাথে সাথে ক্যারিয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিৎ। আমার বিশ্বাস এ ধরনের অনুষ্ঠান সবার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ দেবে।