নিউজগার্ডেন ডেস্ক: "রাসুল (সা.)-এর সীরাত যত বেশি চর্চা হবে, আমাদের হৃদয় তত বেশি আলোকিত হবে। ইসলাম আনুষ্ঠানিকতাসর্বস্ব কোনো ধর্ম নয়; সীরাতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করে আমাদের জীবনধারা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের আচার-আচরণ দেখে অন্যান্য জাতি-ধর্মের মানুষকে শিখতে হবে।"
বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, চট্টগ্রামের উদ্যোগে আজিমুশশান মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা হযরত মাওলানা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন উপরোক্ত কথা বলেন।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) নগরীর ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ চত্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিল দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়।
মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য আওলাদে রাসূল (সা.) আল্লামা সাইয়েদ আনোয়ার হোসাইন তাহের জাবেরী আল-মাদানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাহবারে বায়তুশ শরফ, চট্টগ্রাম হযরত শাহ মাওলানা আবদুল হাই নদভী।
প্রধান ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকার প্রখ্যাত মুফাসসীরে কুরআন মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী। বিশেষ ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকার বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মাওলানা আলী হাসান ওসামা। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি ও বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাওলানা সাইয়েদ মোহাম্মদ আবু নোমান।
ড. আ ফ ম খালিদ বলেন, বর্তমানে আমরা পোশাকে আশেকে রাসুলের পরিচয় দিলেও অনেকের অন্তরে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নেই। রাসুল (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করলেই কেবল সত্যিকার মুসলিম হওয়া সম্ভব। ঘরে ঘরে কুরআনের তালিম বাড়াতে হবে এবং উম্মাহর ঐক্য জোরদার করতে হবে। দ্বীনের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উম্মাহর কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এদেশের বয়স ৫৬ বছর হলেও লুটপাটের মাধ্যমে আমরা দেশকে প্রায় শেষ করে দিয়েছি। ২৮ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে-এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু দেশের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। জাতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের সম্মান অর্জন করতে হলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। মদীনার আদর্শভিত্তিক জীবনব্যবস্থা কায়েম না হলে দেশে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে না। দলপ্রীতি থাকতে পারে, তবে দলকানা মনোভাব জাতির জন্য সুখকর নয়। কাজ করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মাহফিলে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মাওলানা আবু বকর রফিক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা গিয়াস উদ্দীন তালুকদার।
এছাড়াও মাহফিলে বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আ.ক.ম. আবদুল কাদের, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আহমদ আলী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাওলানা শফিউল্লাহ কুতুবী এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. বি.এম মফিজুর রহমান আজহারী।
মাহফিলে সম্মানিত আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী শেখেরখীলের হযরত শাহ মাওলানা মুহাম্মদ ইছহাক পীর সাহেব, ফিরোজশাহ্ কলোনী বড় মাদ্রাসা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম পীর সাহেব, দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা মকছুদ আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক খতিব হযরত মাওলানা এ.বি.এম ছিদ্দীকুল্লাহ, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুল হক নিজামী, হযরত মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ ছলিমুল্লাহ, গারাঙ্গিয়া পীর সাহেব হযরত শাহ মাওলানা আনোয়ারুল হক মজিদী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হক, প্রফেসর মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ পীর সাহেব চরকানাই, পটিয়া, হযরত শাহ মাওলানা মুনিরুল মান্নান কুতুবী শাহজাদা, কুতুবদিয়া, প্রফেসর ড. মাওলানা নেজাম উদ্দিন, আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মুহসিন ভূইয়া এবং হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক।
আয়োজকরা জানান, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবতার জন্য তাঁর অনন্য অবদান সম্পর্কে আলোচনা এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ, বুজুর্গানে দ্বীন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।