কাজী ইব্রাহিম সেলিম: পূর্বের বছরগুলোতে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে লোহার ব্রিজ ভেঙ্গে খালে পড়ে নোংরা পানিতে মানুষ আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে দিয়ে, মুরাদপুর মোড়, গোলচত্বর, পুলিশ বক্স এলাকা থেকে অপেক্ষমান মানুষগুলোকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাইকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
১২ রবিউল আউয়াল, এ দিনে মহান আল্লাহ তাআলা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে সমগ্র মানবজাতির জন্য ও সমস্ত সৃষ্টিজগতের রহমতসরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। এ উপলক্ষে আল্লাহ ও নবী প্রেমী মানুষরা জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্যাপন করে থাকেন। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও জুলুসে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে। নগরীর বিবিরহাট এলাকায় জামেয়া আহম্মদীয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা থেকে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মূলত আল্লাহ ও রাসুল (সা.) এর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জুলুসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশগ্রহণ। জুলুসে অংশগ্রহণকারী মানুষরা আল্লাহর জিকির ও নবী করিম (সা.) দরূদ পড়ে পড়ে চলাফেরা করে থাকেন। এবারের জুলুসে নেতৃত্ব দিবেন আওলাদে রাসুল (সা.) আল্লামা সাবির শাহ (ম.জি.আ)। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো ঘুরে মাদ্রাসার ময়দানে এসে যোহরের নামাজ আদায় করা হয়। তবে প্রতিবছর অসাবধানতাবশত হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে।
জুলুছে হতাহতের কারণ: সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে হুজুর কেবলার সাথে আসা জনস্রোত সুশৃঙ্খলভাবে মুরাদপুর পর্যন্ত এলেও, মুরাদপুর মোড়, গোলচত্বর, পুলিশ বক্স এলাকার এসে হুজুর কেবলার গাড়ী মোড় ঘুরানো সময় সে শৃঙ্খলাটা আর থাকে না। সেখানে অপেক্ষমান মানুষগুলোর সাথে ও পূর্বদিক থেকে আসা মানুষগুলোর সাথে মুখোমুখি প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় পদদলিত হয়ে ও ব্রিজ ভেঙ্গে নালায় পড়ে ময়লা-আবর্জনার নোংরা পানিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে।
সড়ক প্রশস্ত-জুলুসে হতাহতের কথা নয়: মুরাদপুর মোড়, গোলচত্বর এলাকায় সড়ক প্রশস্ত বিধায় এখানে হতাহতের ঘটনা ঘটার কথা নয়, সুশৃঙ্খলার অভাবে এমনটি ঘটে থাকে। এ জায়গাটিতে বহদ্দারহাট থেকে ও চারদিক থেকে আসা মানুষগুলো অপেক্ষমান থাকে। হুজুর কেবলা আসার সময় এ স্থানটিতে জনজটের কারণে ধাক্কাধাক্কি বেড়ে যায়। এসময় কিছু মানুষ সামনের দিকে অগ্রসর হলেও, অপেক্ষমান মানুষগুলো পুরোপুরিভাবে সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে, অপেক্ষমান মানুষগুলোর সাথে ও পূর্বদিক থেকে আসা মানুষগুলোর সাথে এবং পশ্চিম দিক থেকে হুজুর কেবলার সাথে আসা মানুষগুলোর মুখোমুখি প্রচ- জনজট ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে থাকে সেজন্যই, মানুষ পদদলিত হয়ে মারা যান। অধিক ধাক্কাধাক্কির কারণে কেউ খালে পড়ে মারা যান, অনেকে আহত হন, কেউ কেউ জনজটের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পথ খোঁজে না পেয়ে জীবন বাঁচাতে নিজেই নালায় লাপিয়ে পড়ে ময়লা-আবর্জনায় নোংরা পানিতে জুলুস শেষ হওয়া পর্যন্ত অনেক্ষণ অপেক্ষা করার পর, একেকটা ময়লা-আবর্জনায় কালো কালো হয়ে আহতবস্থায় উপরে উঠতে দেখা গেছে পূর্বের বছরগুলোতে। ওদিকে নালা বড় করার কারণে সেটিতে কারো পক্ষে মজবুত করে ঢালাই করা ব্রিজ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেজন্য, লোহার দুর্বল দুর্বল ব্রিজ দিয়ে মানুষ কোনো রকমে যাতায়াত করেন ও ব্যবসা বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ দুর্বল ব্রিজগুলোর উপরে জুলুসের সময় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ উঠার কারণে ব্রিজগুলো ভেঙ্গে খালে পড়ে লোহার সাথে নিজেরাও আঘাতপ্রাপ্ত হন, ওদিকে ব্রিজের মালিককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে যান।
সেজন্য, জুলুসে ব্রিজ ভেঙ্গে হতাহত থেকে রক্ষার উপায়: প্রযাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনী রাখতে হবে। হুজুর কেবলার গাড়ী মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই মুরাদপুর মোড়, পুলিশ বক্সের ওখানে মাইকে এলাকাটিতে গত বছরসহ পূর্বের বছরগুলোতে লোহার ব্রিজ ভেঙ্গে নালায় পড়ে ময়লা-আবর্জনার নোংরা পানিতে মানুষ আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে দিয়ে মানুষকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে না থাকার জন্য ও জনজট-ধাক্কাধাক্কি সৃষ্টি না করার জন্য সচেতন করে তোলে, মুরাদপুর মোড়, গোলচত্বর পুলিশ বক্স এলাকা থেকে সব মানুষকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে। হুজুর কেবলার গাড়ি মুরাদপুরে এসে পৌঁছলে দায়িত্বশীলদের যথাযথ পদক্ষেপে ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পূর্বদিক থেকে মানুষের আসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীলরা যদি এ সুষ্ঠু ও মঙ্গলজনক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন এবং জুলুসে অংশগ্রহণকারী মানুষগুলোও যদি দায়িত্বশীলদের দিকনির্দেশনা মেনে চলে সুশৃঙ্খল বজায় রেখে চলেন, তাহলে দুর্ঘটনা থেকে অনেকটা মুক্তি মিলবে। এর ফলে এবারের জুলুসে আল্লাহর রহমতে একজন মানুষও অপ্রীতিকর ঘটনায় মারা যাবেনা, কেউ আহতও হবেনা। ইন্শাল্লাহ। লেখক: সাংবাদিক-সাহিত্যিক ও বিশ্লেষক