চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘পথে পথে প্রতিবাদ’।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।

গ্রামীণফোনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন স্থান ও গ্রামীণফোন সেন্টারের সামনে ভ্রাম্যমাণ বাহনে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এতে বাউল গান করেন শিল্পী মোজাহের। আবৃত্তির মাধ্যমে বকেয়া পাওনা ও আন্দোলনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রায় ১৬ বছর ধরে গ্রামীণফোনের হাজারো সাবেক কর্মী তাদের ন্যায্য পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ, আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়নি।

‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর সমন্বয়কারীরা জানান, গত ২১ মাস ধরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ সাবেক কর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর মধ্যে কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী প্রতিবাদ, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণ, গণপাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ও দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

সমন্বয়কারীরা বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের ন্যায্য পাওনার দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা মনে করি, এটি আমাদের আইনগত ও ন্যায্য অধিকার। দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যাটির সমাধান প্রয়োজন।’

সমন্বয়কারীরা সোলেমান মেহেদীর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন মো. রেজাউল করিম, মো. আরশাদ ও আরিফুল ইসলাম আরিফ।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষা ও বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পরও সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।

কর্মসূচি থেকে ২০২৬ সালের মধ্যেই পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানকেই তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে জানান।

 

মন্তব্য করুন