নিউজগর্ডেন ডেস্ক: বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৫তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবের সামনে বীরকন্যা প্রীতিলতার ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক।
বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ দিদার, মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ আকবর, মোহাম্মদ রায়হান, তরুণ বড়ুয়া, দিবাকর দাশসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা আমাদের দুর্দিনের বন্ধু। নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি শিখিয়ে গেছেন, কীভাবে মাতৃভূমিকে ভালোবাসতে হয়। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবে পরিচালিত বিপ্লবীদের অভিযান সফল হয়েছিল। সামরিক নিয়ম অনুযায়ী আক্রমণের সময় নেতা থাকবেন সবার আগে এবং ফিরে আসার সময় সঙ্গীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে নেতা ফিরবেন সবার শেষে—এই নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন প্রীতিলতা। অভিযান সফল হওয়ার পর হুইসেল বাজিয়ে দলের সদস্যদের ফিরে যাওয়ার সংকেত দেন তিনি। পরে নিজেও ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আত্মগোপনকারী এক ইংরেজ সৈনিকের গুলিতে বিদ্ধ হন প্রীতিলতা। এরই মধ্যে দলের অন্য সব সদস্য নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হন।দলের সব সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রীতিলতা তাঁর সঙ্গে বহন করা ‘পটাশিয়াম সায়ানাইড’ পান করে আত্মাহুতির পথ বেছে নেন, যাতে ইংরেজ সৈন্যরা তাঁকে জীবিত অবস্থায় আটক করতে না পারে। পূর্বেই নির্দেশ ছিল—যেকোনো পরিস্থিতিতেই শত্রুর হাতে জীবিত অবস্থায় ধরা দেওয়া যাবে না। আহত অবস্থায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যাতে তাঁকে জীবিত আটক করতে না পারে, সেজন্য তিনি পূর্বনির্দেশের প্রতি অবিচল থেকে সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।বক্তারা আরও বলেন, প্রীতিলতা প্রমাণ করেছেন, মাস্টারদা সূর্য সেনের সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল এবং প্রীতিলতা এই অভিযানের যোগ্য নেতৃত্বদানকারী ছিলেন।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ব্রিটিশ পুলিশ প্রীতিলতার মৃতদেহ খুঁজে পেতে সক্ষম হয়। একজন নারীকে এই অভিযানের আক্রমণকারী হিসেবে শনাক্ত করে তারা হতভম্ব হয়ে যায়।পরিশেষে বক্তারা বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাবকে শুধু নামেই জাদুঘর না রেখে বাস্তবে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপান্তর করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।