নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে চট্টগ্রামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি ও শিল্পায়নের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদেরও আকৃষ্ট করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মতো আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা বিদেশি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের কাজীরদেউরীস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ২০ দিনব্যাপী ৭ম এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ-২০২৬ -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা চলবে ৮ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করছেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ বাজার সৃষ্টি, প্রচার, প্রসার ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের বাণিজ্য মেলা উদ্যোক্তাদের সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কারণে এ নগরীর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মেয়র দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, আধুনিক বিপণনব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তাদের রপ্তানিমুখী চিন্তা করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা তৈরি করতে হলে পণ্যের মান, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং ও বিপণন ব্যবস্থায় আরও আধুনিকতা আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুধু পণ্য প্রদর্শনের জায়গা নয় এটি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চট্টগ্রামকে আরও ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশের সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরিতে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম বক্কর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসহাক মিয়া।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসহাক মিয়া। বিশেষ অতিথি আবুল হাসেম বক্করকে ফুল দিয়ে বরণ করেন মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার মো. তানভীর আহমেদ। পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে মিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন মেলা আয়োজন ও পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ থেকে ২৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২০ দিনব্যাপী ৭ম এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বাংলাদেশ-২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।