চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে দোহাজারী সদরে চন্দনাইশ প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
চন্দনাইশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক পূর্বকোণের প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গ্লোবাল টিভির প্রতিনিধি এম. এ. হামিদ, দৈনিক জবাবদিহির প্রতিনিধি ও নির্যাতিত গণমাধ্যমকর্মী মো. আয়ুব মিয়াজী, দোহাজারী ইসালামি ফ্রন্টের সভাপতি মো. কলিম উদ্দিন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, বিজয় টিভির প্রতিনিধি জাবের বিন রহমান আরজু, সিপ্লাস টিভির প্রতিনিধি ফয়সাল চৌধুরী, দৈনিক জনবাণীর প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম টিপু, সাংবাদিক রনি কান্তি দেব, সমাজ সেবক জামাল হোসেনসহ সাংবাদিক নেতারা।
এ সময় বক্তারা সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন, হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তারা বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের মদদে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরব সমর্থনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার তদন্ত যদি অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই থাকে, তাহলে ন্যায়বিচারের দাবি অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকলে অপরাধীরা পদোন্নতি পান। একপর্যায়ে ধীরে ধীরে হামলাকারীরা সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে ওঠে। এমন কি সাংবাদিক হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাও প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অপরাধজগতের প্রভাবশালী গডফাদারে পরিণত হওয়ার সুযোগ পায় বলে তারা মন্তব্য করেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারে, তাহলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সমাবেশ থেকে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।