নিউজগার্ডেন ডেস্ক: নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শুধু সিটি কর্পোরেশন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘Urban Waste Management: Shared Responsibility, Collective Action’ শীর্ষক এক বহুপক্ষীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান এমপি আরও বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের খাল, নদী, জলাশয়, জলাবদ্ধতা ও সামুদ্রিক পরিবেশের সুরক্ষায় কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য উৎস থেকেই বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি নোমান উল্লাহ বাহার এর সভাপতিত্বে সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লোটাস গ্লোবাল ট্রেড অ্যান্ড লজিস্টিকের এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশকর্মী আশরাফ সিদ্দিকী।
এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম'র সমন্বয়ক ও বিহেভিয়ার থেরাপিস্ট তাসমিয়া রহমান'র সঞ্চালনায় মূখ্য আলোচক ছিলেন ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম। ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সংলাপে বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড এনভায়রন'র পরিচালক রহমান রানা, চট্টগ্রাম জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ইপসা'র সহকারী পরিচালক আবদুস সবুর, যুবনেতা ইমন মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক একরাম হোসেন, সংস্কৃতি কর্মী দিলীপ কুমার সাহা, এক টাকায় বৃক্ষরোপণ'র প্রতিষ্ঠাতা শেখ আব্দুল্লাহ ইয়াছিন, ওয়ান ম্যান আর্মি এর সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, এসডিজি ইয়ুথ ফোরামের সদস্য সামিউল একরাম, কবিতা ত্রিপুরা প্রমুখ। মূখ্য আলোচক জহিরুল আলম বলেন, টেকসই নগর গড়ে তুলতে নাগরিক দায়িত্ববোধ, সুশাসন ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ( SDGs )-এর ১১ ও ১২ নম্বর লক্ষ্য অর্জনেও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এতে মূল প্রবন্ধে আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, বর্জ্য হ্রাস, পুনর্ব্যবহার, সম্পদ পুনরুদ্ধার, নাগরিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন খাতের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ এবং তরুণদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এ ধরনের সংলাপ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত সুপারিশ, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য।