নিউজগর্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে সকল মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য চিকিৎসকগণের উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে পালন করতে হবে। চিকিৎসকদের পেশাগত ও সামাজিকভাবে যে অবস্থান রয়েছে, তা অটুট রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে তাদের কাজের সুযোগ, সামাজিক অবস্থান ও সক্ষমতা কেউ খাটো বা হেয় করতে পারবে না। আজ ১ নভেম্বর রোববার সকালে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন সিনেমা প্যালেস এলাকার লয়েল রোডস্থ স্বাস্থ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বিভাগে পদায়নের জন্য ন্যস্তকৃত ৪৫ বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তাগণের (চিকিৎসক) যোগদান পরবর্তীতে বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে চট্টগ্রাম বিভাগে যোগদানকৃত ৬৫ জন সহকারী সার্জন ও ১৯ জন ডেন্টাল সার্জনসহ মোট ৮৪ জন নবাগত চিকিৎসককে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার চট্টগ্রাম বিভাগে যোগদানকৃত চিকিৎসকদেরকে নিজ নিজ জেলায় পদায়ন করা হবে। স্বামী-স্ত্রী চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজ জেলায় বদলীর সুযোগ রয়েছে। যোগদানকারী চিকিৎসকদের প্রথম দিনই অঙ্গীকারনামা প্রদান ও পরবর্তীতে মেধা ও নিয়ামক অনুযায়ী দ্রুত পদায়নের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগকে একটি ‘টিম’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, বায়োমেট্রিক হাজিরা, ইপিআই কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দক্ষতায় চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম সেরা অবস্থানে রয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রত্যেক চিকিৎসককে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিভিন্ন নেতিবাচক সমালোচনা বা ডাক্তারদের সামাজিক মর্যাদা ও অবস্থান নিয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, নতুন ক্যাডারদের প্রথমে যোগদান করার সময় পুরনো ক্যাডারদের সাথে তুলনা না করে তাদের কাজকে সম্মান ও মূল্যায়ন করতে হবে। কাউকে ছোট করা উচিৎ নয়। কোনো কনসালট্যান্ট বা অন্য পেশার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিদ্রুপ বা অবমূল্যায়ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন, স্থানীয় সাংবাদিক ও অন্যান্য পেশাজীবির সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। তাদের কোনো বক্তব্য বা উপস্থিতি ইগনোর না করে ভালোভাবে ম্যানেজ করতে হবে। পরিবার, পিতা-মাতা ও শিক্ষক সমাজকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে এক্সপার্টনেস ও সততার সাথে নিজেদের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। কোনো অপ্রয়োজনীয় আন্দোলনে না জড়িয়ে কাজের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। ডিপার্টমেন্টাল ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুুতি নিতে হবে। সপ্তাহে অন্ততঃ দু’দিন ওষুধ কোম্পানী ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাত করা যেতে পারে। অতি জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত কোন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধির মোটরসাইকেল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তিনি।