নিউজগর্ডেন ডেস্ক: ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হলে সরকার ও জনগণ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্য তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের মধ্যে কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেকও বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা সর্বজনস্বীকৃত। অথচ বিগত সময়ে তাঁর নাম ফলকটি প্রেস ক্লাব থেকে ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকরা নির্লজ্জভাবে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছিল। আমি নামফলকটি যথাযথ সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত সাত-আট মাসে দেশের অর্থনীতিতে যে অগ্রগতি এবং মানুষের মধ্যে যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে, তা ধরে রাখতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। সাংবাদিকদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।
বক্তব্য রাখেন-চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান কামরুল হুদা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পী, ইমরান এমি, বাকি বিল্লাহ সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় সাম্প্রতিক গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো ইতোমধ্যে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কিছু পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তির লোকজন ছদ্মবেশে ভাঙচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোও জানে না কারা এসে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। অথচ গণমাধ্যমে এখনো ঘটনাগুলোকে শ্রমিক আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাই প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে। পেশাগত অবস্থান থেকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুধাবন করে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর যারা দেশে থেকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের অনেকেই এখন দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। অন্যদিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী শক্তির লোকজন আবারও বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি করে দেশকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবাদকর্মীরা সবসময় জনগণের কথা বলবেন এবং নিরপেক্ষ থাকবেন। তাঁদের সংবাদ সরকারের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে যেতে পারে, তবে তা হতে হবে সত্য ও বাস্তবতানির্ভর। সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করলে শেষ পর্যন্ত সরকার, জনগণ এবং পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের আবাসনের দাবি যৌক্তিক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের ভূমির স্বল্পতার কারণে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সীমিত জায়গায় অধিকসংখ্যক সাংবাদিকের আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানান। দেশের কৃষিজমি কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের অরাধনা। সাংবাদিকরা মানুষের পক্ষে দাঁড়ায় একেবারে নিজ থেকে, তার জন্য কোনো বিনিময় দেওয়া লাগে না। মানুষ যখন কোনো আইনজীবী, কৃষিবিদ, ইঞ্জিনিয়ারের কাছে যান তখন সেবার জন্য টাকা দিতে হয়। সাংবাদিকদের কাছে সেটা দিতে হয় না। যদিও আজ কোথাও কোথাও পেশাদারিত্বের অবনমন ঘটেছে। তাই সাংবাদিকতাকে আমি কোনো পেশা মনে করি না, এটি একটা মিশন; যার কাজ হচ্ছে ক্ষমতার মুখে সত্য উচ্চারণ করা।’
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা হারানো মানেই সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফা ভিত্তিক ব্যবসা নয়। এটি একটি মিশন, পবিত্র কাজ। এই কথাগুলো আমাদের মনে রাখতে হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা আজকে ছেঁয়ে গেছে।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি বাছির জামাল সাংবাদিকদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতে আরও নানা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান।