নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ।
এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামের চেরাগী পাহাড়স্থ লুসাই ভবনের তৃতীয় তলায় জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চের সভাপতি ও সাংবাদিক কামরুল হুদা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকার নজরুল ইসলাম।
সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি কবি এম এ হাশেম আকাশ, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের গীতিকার ও সুরকার দীলিপ ভারতী, নাট্যকার রতন চক্রবর্ত্তী, আঞ্চলিক গানের শিল্পী ফরিদুল ইসলাম, সংগীতশিল্পী এস কে মানিক, কবি জহিরুল ইসলাম জহির, শিল্পী মনসুরী, শিল্পী জুয়েল দ্বীপ, রূপনা দাশ, মোস্তফা কামাল, এস এম ফারুক, নারী উদ্যোক্তা ও কবি তানিয়া সুলতানা এবং সংস্কৃতিকর্মী এস এম পারভেজ প্রমুখ।
এছাড়াও চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক উৎসবের সার্বিক পরিকল্পনা, আয়োজনের সময়সূচি, শিল্পী ও অংশগ্রহণকারী নির্বাচন, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উৎসবকে সফল ও বর্ণাঢ্য করে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিচয় ও চেতনার অন্যতম ধারক। একটি সুস্থ, মানবিক ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের সব শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সংস্কৃতিমনা মানুষকে একই মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ করাই এ উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
সভায় প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক উৎসবকে সর্বাত্মকভাবে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার, স্থানীয় শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬ সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সফল করার জন্য মঞ্চ উপ কমিটি, আপ্যায়ন উপ কমিটি, শৃঙ্খলা উপ কমিটি, প্রচার উপ কমিটি, অর্থ উপ কমিটি, অভ্যর্থনা উপ কমিটি বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করা হয়।