বাংলাদেশে আধুনিক ধারার আরবি সাহিত্য চর্চার প্রেরণা ও পথিকৃৎ সুলতান যওক: মাওলানা সরোয়ার কামাল

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি’র আমীর মাওলানা সরোয়ার কামাল আজীজী বলেছেন, সরকারি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার নিগড় ভেঙে একটি যুগোপযোগী ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থার ফরমুলা উপস্থাপন করা ছিল আল্লামা সুলতান যওকের বৈপ্লবিক উদ্যোগ। এর আলোকে তিনি চট্টলায় গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া দারুল মা’রিফ আল-ইসলামিয়া। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাপদ্ধতি বহু দেশের আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। সুলতান যওক নদভীর (রহ.) জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। ‘মরহুম জওক সাহেব তাঁর জ্ঞান, মনীষা, উদার চিন্তা- চেতনা ও উম্মাহ কেন্দ্রিক ভাবনার জন্য আন্তর্জাতিক ইসলামি ব্যক্তিত্বের আসনে সমাসীন হয়েছিলেন। বাংলাদেশে আধুনিক ধারার আরবি সাহিত্য চর্চার প্রেরণা ও পথিকৃৎ হিসেবে তিনি অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

তিনি গতকাল বিকালে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর কর্মময় জীবন আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী রহ. শীর্ষ স্থানীয় বুজুর্গ আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রতিভাবান ব্যক্তিদের প্রতিচ্ছবি। কর্মবীর ছিলেন। তিনি একটি নাম নয়, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন স্বভাব কবি, তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রী দিয়েছিলেন নদভী। তিনি আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন। আন্তরিকতার ছোয়ায় তার জীবনকে আলোকিত করেছিল। সুন্নতের প্রতি ছিলেন তিনি পাবন্দ। দারুল মারিফ মাদরাসা এই জাতির জন্য তিনি একটি উপহার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি একটি প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক দল। এটি মূলত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমদের দ্বারা গঠিত এবং তাদের লক্ষ্য হলো ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতির আলোকে দেশ পরিচালনা করা। ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এর কিশোরগঞ্জ জেলায় জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের একটি শাখা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে, এটি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম ইসলামী রাজনৈতিক দল।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের আমির শায়খুল হাদীস মাওলানা জিয়াউল হুসাইনের সভাপতিত্বে ও হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেন রাব্বানীর পরিচালনায় মাওলানা মো: ইব্রাহিমের কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন, নায়েবী আমীর আবদুর রহমান চৌধুরী, মুফতি নুরুল আমিন, হাফেজ তাজুল ইসলাম, পীরে তরিকত হিজবুল্লাহ, আলেমী দ্বীন মুফতি হারুন, হাফেজ জাকারিয়া খালেদ, ফোরকানুল্লাহ খলিল, মুহাদ্দিস এনামুল হক মাদানী, মুহাদ্দিস নুর আনোয়ারী, মাওলানা আলম, মাওলানা আবদুল আজিজ, সাংবাদিক ওসমান গণি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক সাইফি আনোয়ারুল আজিম, মুফতি হাবিবুল্লাহ চৌধুরী, ছাত্র সমাজ নেতা তারিকুল ইসলাম, মো: সাইফুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ, ওলামা মাশায়েখ, ছাত্র-জনতা, সাংবাদিক, আইনজীবি ও ইসলামি গবেষক সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী রহ. ছিলেন একজন শীর্ষস্থানীয় ও বুজুর্গ আলেম। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। এছাড়াও, তিনি জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক ছিলেন।
আল্লামা মুহাম্মদ সুলতান যওক নদভী ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব ছিলেন। তিনি আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি এবং বিশ্ব মুসলিম লীগের বাংলাদেশ শাখার প্রধান ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক ছিলেন। আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এর ইন্তেকালে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা, দাওয়াত ও তাবলিগ অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ একটা মুসলিম রাষ্ট্রে যদি মুসলমানরাই অবহেলিত থাকে, তাদের চাহিদা এবং দাবিই অপূর্ণ থাকে, তবে এই রাষ্ট্রের উন্নতি-অগ্রগতি কোনদিনও সম্ভব না। বাক স্বাধীনতার নামে যদি মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়, সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। অনতিবিলম্বে ইসলামবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্তব্য করুন