ফটিকছড়িতে জাল সনদ ব্যবহার করে মাদরাসা পর্ষদের সভাপতি..!!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ভূজপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো: একরামুল হক একরাম।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত পৃথক যাচাইকরণ প্রতিবেদনে তাঁর এসএসসি, এইচএসসি ও উচ্চশিক্ষাগত সনদকে সম্পূর্ণ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক লিখিত যাচাইকরণ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মো: একরামুল হকের নামে ইস্যু করা এসএসসি আইডি নম্বর ০৯-০-১০-৯১০-৩১৭ এবং এইচএসসি আইডি নম্বর ১২-০-১১-৯১২-২৩২ এই সনদগুলোর ফটোকপি যাচাই করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ জাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে গুরুতর অপরাধ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুপারকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির বিএসএস সনদও ভুয়া: এদিকে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ইস্যু করা পৃথক এক যাচাইকরণ প্রতিবেদনে জানানো হয়, মো: একরামুল হকের নামে ব্যবহৃত বিএসএস/ বিবিএ সনদটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও কাউন্টারফিট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী, শিক্ষার্থী আইডি নম্বর: ১১১-৩১-৫৫ (ভুয়া)
পাসের সাল: ২০১৭ (ভুয়া), সিজিপিএ: ৩.৫০ (ভুয়া) এসব তথ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী বা একাডেমিক রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে।
স্থানীয়দের দাবি, জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করেই মো: একরামুল হক দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ দখল করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, “একজন রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির এমন জালিয়াতি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ বার্তা বহন করে।” এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো: একরামুল হকের মোবাইল নম্বর ০১৮৫৫২৭৪৩৯৫ এ একাধিকবার ফোন ও অনলাইনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল কাইয়ুমের মোবাইল নম্বর ০১৮১৮১৪৩৭০৬ এ যোগাযোগ করা হলেও তাকেও পাওয়া যায়নি।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই জাল সনদ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি-না,
তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান জসিম বলেন,“বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে যাচাই-বাছাই শেষে যদি তিনি সত্যিই অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আমার কিছু বলার নেই।”
উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস. এ. মুরাদও একই কথা বলেন, তিনি বলেন, “এটি যেহেতু রাজনৈতিক বিষয় নয় সেহেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বিষয়টি দেখবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।”
মো: আকরামের জাল সনদ ঘটনাটি প্রকাশের পর ফটিকছড়ি ও দাঁতমারা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

মন্তব্য করুন