
নিউজগার্ডেন ডেস্ক: বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে পাখি খাঁচায় বন্দি ও হত্যা বন্ধের দাবিতে দেশব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম নগরীর “ফুসফুস” খ্যাত সিআরবি এলাকায় আজ ১৬ মে ২০২৬, শনিবার বিকেল ৪টায় এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আবৃত্তি শিল্পী দিলরুবা খানম ছুটির সঞ্চালনায় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা রিজওয়ানুর রহমান খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শহিদুল ইসলাম রিপন,সোহাইল উদ দৌজা ও মোহাম্মদ জানে আলম।
বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফটকা ফাটানো, বন্দুক ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ এবং নানান ধরনের ফাঁদ পেতে নির্বিচারে পাখি হত্যা করা হচ্ছে—যা একটি জঘন্য অপরাধ। তারা পাখি হত্যাকারীদের “জাতীয় শত্রু” আখ্যা দিয়ে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং পাখি হত্যাকারী দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা সরকারের নীরব ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা পড়েছি—“পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল”; পাখির কিচিরমিচির ডাকেই আমাদের ঘুম ভাঙে। পাখিদের অনুপ্রেরণায় মানুষ উড়োজাহাজ আবিষ্কারের চিন্তা করেছে। পাখি বিজ্ঞানীদের মতে, পাখি না থাকলে মানুষও টিকে থাকতে পারবে না, কিন্তু মানুষ না থাকলেও পাখি থাকবে।
তারা আরও বলেন, খাঁচায় পাখি বন্দি রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে পাখির বাজার গড়ে তুলে কিছু অর্থলোভী মানুষ পাখিকে পণ্যে পরিণত করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের সামনে খাঁচাবন্দি পাখি প্রদর্শন তাদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
পাখি স্বাধীনভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে বিচরণ করবে—এটাই প্রকৃতির নিয়ম; পাখিদের কোনো ভিসা বা পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। পাখি আমাদের জাতীয় সম্পদ। বক্তারা বলেন, পাখি হত্যা দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। পাখিদের খাবার ও পানি দেওয়া, গাছের ডালে বাসা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে; একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি হলে দুই বছর কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না বলে বক্তারা দুঃখ প্রকাশ করেন। পথসভা থেকে পাখি হত্যা ও খাঁচাবন্দি সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানানো হয়।








